সিটিতে কি গার্দিওলার অধ্যায় শেষের পথে?

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:১০ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটির চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়—এ যেন একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-১ গোলের পরাজয়ে সিটির পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক, যা প্রশ্ন তুলছে—ম্যানচেস্টার সিটিতে কি পেপ গার্দিওলার অধ্যায় শেষের পথে?

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা এর আগেও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় হোঁচট খেয়েছে, কিন্তু এতটা নিস্তেজ মনে হয়নি। ম্যাচের পরিসংখ্যান খুব বেশি খারাপ না হলেও মাঠের পারফরম্যান্স বলছে ভিন্ন কথা। রিয়াল মাদ্রিদ বলের দখল কম রেখেও সিটিকে ছত্রখান করেছে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতির বিপরীতে সিটির রক্ষণ ছিল অসহায়।

এমন ব্যর্থতার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—গার্দিওলার সিটির ভবিষ্যৎ কী? দলের রক্ষণ দুর্বল, মাঝমাঠে সৃষ্টিশীলতার অভাব স্পষ্ট, এবং কেভিন ডি ব্রুইন ছাড়া কেউই জাদুকরী মুহূর্ত সৃষ্টি করতে পারছেন না। গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোতে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট, কিন্তু সেই পুনর্গঠনের দায়িত্ব গার্দিওলার কাঁধে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

গার্দিওলা ম্যাচের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, "হ্যাঁ, আমি থাকতে চাই। আমি চালিয়ে যেতে চাই।" কিন্তু সত্যিই কি তার এই পথচলা দীর্ঘ হবে? সিটির স্কোয়াড পুনর্গঠন করতে হলে প্রচুর শক্তি, কৌশলগত পরিবর্তন এবং মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন হবে।

ইতিহাস বলছে, শীর্ষ কোচরা সাধারণত ১০ বছর পার করার আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। গার্দিওলা টানা প্রায় দুই দশক ধরে এই কাজ করছেন। এখন প্রশ্ন হলো, তিনি কি আরেকটি অধ্যায় রচনা করতে চান, নাকি ক্লান্তির কাছে নতি স্বীকার করবেন?

সিটি সমর্থকদের জন্য আশার কথা হলো—এই দলটির অর্থ ও ক্ষমতার অভাব নেই। তবে গার্দিওলার হাতে আরেকটি সোনালি প্রজন্ম গড়ার সময় ও ধৈর্য আছে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত