রিকেলটনের সেঞ্চুরি, মার্করামের ঝড়ো ফিনিশে প্রোটিয়াদের রান পাহাড়

রায়ান রিকেলটন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক শতক তুলে নিলেন। পাকিস্তানের মাটিতে যেন আলাদাই স্বস্তি পান এই ওপেনার। করাচিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনি গড়লেন ইতিহাস—চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচেই শতক হাঁকানো প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হলেন রিকেলটন। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রোটিয়ারা ৩১৬ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় আফগানদের।

শুরুর ধাপে বাউন্ডারির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন, স্ট্রাইক রোটেট করে ইনিংস মসৃণ করেছেন, আর শেষ পর্যন্ত এক রান নিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন তিন অঙ্ক। চলতি টুর্নামেন্টে এটি মাত্র চতুর্থ দিন, আর এরই মধ্যে পাঁচটি শতক দেখা গেছে।

ইনিংসের প্রথম ২০ ওভারে ব্যাটে টাইমিং খুঁজে পাননি এইডেন মার্করাম। কিন্তু একবার গতি পাওয়ার পর যেন থামাথামির সুযোগই ছিল না। শেষ দিকে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দলকে ৩০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে গেলেন তিনি।

৪৬তম ওভারে ফারুকিকে ইনসাইড-আউট খেলেই ছন্দ খুঁজে নেন, এরপর নূর আহমদকে এক চার-এক ছয় মেরে পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মেজাজে চলে যান। ৪৮তম ওভারে ফারুকিকে টানা তিনটি ছয় হাঁকিয়ে প্রোটিয়াদের স্কোর আরও সমৃদ্ধ করেন।

তার ব্যাটিং ঝড়েই এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দ্রুততম ফিফটি—মাত্র ৩৩ বলে, আগের রেকর্ড ছিল ৪০ বলে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে রানখরায় ভুগছিলেন রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। গত এক বছরে ছয় ইনিংসে মাত্র ১০৪ রান, গড় ১৭.৩৩—কোনো ফিফটি নেই। তবে করাচিতে আফগানদের বিপক্ষে তিনি ৫২ রান করে ফিরলেন ফর্মে।

ধীরগতিতে শুরু করলেও নিজের ছন্দ পেয়ে যান দ্রুতই। সবচেয়ে বড় কথা, আফগানিস্তানের সেরা বোলার রশিদ খানকেও আক্রমণ করেছেন। একবার পয়েন্টের উপর দিয়ে চেপে বসেন, এরপর টানা দুই ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে দেখিয়ে দেন পুরনো রূপ।

যদিও ৪৬ বলে ৫২ রানের ইনিংস শেষ করেন নূর আহমদের বলে, কিন্তু ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শক্ত ভিত দিয়ে যান এই মিডল-অর্ডার ব্যাটার।

একপর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের গতি কমিয়ে ফেলে। ৩২ থেকে ৩৯তম ওভারের মধ্যে কোনো বাউন্ডারি আসেনি। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও নূর আহমদ একসঙ্গে আঁটসাঁট বোলিং করছিলেন, যার ফলে রান তোলার গতি কমে যায়।

তবে সমস্যাটা ছিল নূরের বোলিংয়ে। লাইন-লেংথ ঠিক রাখতে না পারায় কখনও খুব শর্ট, কখনও খুব ফুল ডেলিভারি করেছেন। তার ওভার থেকে বেশ কিছু অতিরিক্ত রান চলে যায়, যা আফগানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

রশিদ খান তাকে পরামর্শ দিলেও, বেশিরভাগ সময় নূর অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বল করছিলেন, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিলেন। আফগানিস্তান যদি ম্যাচে ফিরতে চায়, তবে স্পিনারদের এই চাপ ধরে রাখতে হবে।

করাচির উইকেটে ৩০০ রান সহজ লক্ষ্য নয়। আফগানিস্তানের টপ-অর্ডারকে দ্রুত রান তুলতে হবে, অন্যথায় চাপে পড়ে যাবে তারা। এখন দেখার বিষয়, তারা এই চ্যালেঞ্জের জবাব কিভাবে দেয়।