পুরনো ভালোবাসার কাছে ফিরে যেও না—এই কথাটি অনেকেই বলেন। কিন্তু ডেভিড ময়েসের ক্ষেত্রে সেটি যেন ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। এভারটনের দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছেন তিনি, যা লিভারপুল ও আর্সেনালের (১৪ পয়েন্ট) পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। যখন ময়েস দায়িত্ব নেন, তখন এভারটন ছিল প্রিমিয়ার লিগের ১৬তম স্থানে, অবনমন অঞ্চলের ঠিক ওপরে। এখন দলটির চেহারা বদলে গেছে।
ডেভিড ময়েসের অধীনে এভারটন প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ২.১৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করছে, যেখানে আগের কোচ শন ডাইচের অধীনে তা ছিল মাত্র ০.৮৯। ডাইচ পুরো মৌসুমে ১৯ ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছিলেন, অথচ ময়েস মাত্র ছয় ম্যাচেই তা ছাড়িয়ে গেছেন। টটেনহাম, ব্রাইটন, লেস্টার এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে এভারটন এখন টেবিলের ওপরের দিকেই তাকাচ্ছে।
আগামীকাল শনিবার গুডিসন পার্কে তারা মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এভারটনের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায়, তিন পয়েন্ট পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তার ওপর, ময়েসের জন্য এটি হবে ব্যক্তিগত সম্মানের লড়াই।
অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ রুবেন আমোরিমের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। ১৪ ম্যাচ শেষে তার দলের সংগ্রহ মাত্র ১৪ পয়েন্ট, যা ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে শুরুর একটি। তুলনামূলকভাবে, এরিক টেন হাগ, লুইস ভ্যান গাল, রালফ রাংনিক, এমনকি ময়েসও ইউনাইটেডের কোচ থাকার সময় এতটা বাজে শুরু করেননি।
আমোরিমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলের খেলার ধরন বদলে ফেলা। ইউনাইটেড ঐতিহ্যগতভাবে চারজনের রক্ষণভাগ নিয়ে খেলে এসেছে, কিন্তু আমোরিম চাচ্ছেন তিনজনের রক্ষণভাগ ও উইং-ব্যাক ব্যবহার করতে। মৌসুমের মাঝপথে এত বড় কৌশলগত পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, ময়েস খুব বেশি কিছু বদলাননি। শন ডাইচের রেখে যাওয়া ৪-২-৩-১ ফরমেশনেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, তবে দলটিকে আরও দ্রুতগতির কাউন্টার-অ্যাটাক খেলতে উৎসাহিত করছেন। ডাইচের অধীনে এভারটন প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার পর বল ক্লিয়ার করতেই বেশি মনোযোগ দিত। এখন ময়েস তার খেলোয়াড়দের আক্রমণে যেতে বলছেন।
এদিকে ইউনাইটেডের ফুটবলে আমূল পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন আমোরিম, যা সময়সাপেক্ষ। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ধৈর্যের বড় অভাব, যা টের পেয়েছিলেন ময়েসও, যখন দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ মাসেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, তারা এভারটনের বিপক্ষে শেষ ছয় ম্যাচের সবকটিতেই জয়ী হয়েছে এবং সর্বশেষ চার ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সহজ হবে না।
যদিও আমোরিমের কৌশল সফল হতে সময় লাগবে, ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে সে সময় সবসময় পাওয়া যায় না। শনিবারের ম্যাচ শেষে হয়তো তিনি ময়েসের কাছ থেকেই জানতে পারবেন, চাপের মুখে কীভাবে টিকে থাকতে হয়!
'আমি কখনো অবসর নিইনি', এক বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা প্রসঙ্গে রুট
শেষ ষোলোতেই মাদ্রিদ ডার্বি, বার্সার প্রতিপক্ষ বেনফিকা
চ্যাম্পিয়নস লিগে না থাকায় ৪২% আয় কমেছে ম্যানইউর