ম্যানইউ ম্যানেজার হিসেবে ‘বিশ্ব লড়াই’ করতে চেয়েছিলেন ময়েস

কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর ১৫ বছরের মধ্যে ১১ বছরই এভারটনে কাটিয়েছিলেন ডেভিড ময়েস। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি পাড়ি জমান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। যদিও এক বছরও টিকতে পারেননি ওল্ড ট্রাফোর্ডে। তারপর আরও তিন ক্লাব ঘুরে অবশেষে নিজের পুরনো ঠিকানায় ফিরেছেন ময়েস। মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নিয়ে বেশ সফলও তিনি। এবার জানালেন এই দুই ক্লাবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ‘পুরো বিশ্বের বিপক্ষে লড়াইয়ের’ জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করেছিলেন। তবে বর্তমানে তার শান্ত মেজাজকে যেন আবেগের ঘাটতি হিসেবে দেখা না হয় তাও জানিয়ে দিলেন। 

এভারটনের বর্তমান ম্যানেজার ময়েস জানিয়েছেন, শনিবার গুডিসন পার্কে ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচটি তার জন্য আরেকটি সাধারণ ম্যাচ মাত্র। তিনি এর আগেও ওয়েস্ট হ্যামের ম্যানেজার হিসেবে ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলেছেন।

মাত্র ১০ মাস ইউনাইটেডের দায়িত্বে থাকার পর চাকরি হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফুটবল ম্যানেজারের জীবনে এটি সাধারণ ব্যাপার। আপনাকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে নিতে হবে, আর ইউনাইটেডে চাকরি হারানোর পর সেটাই আমাকে করতে হয়েছে।’

ময়েসের অধীনে এভারটন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এবং তারা বর্তমানে রুবেন আমোরিমের ইউনাইটেডের চেয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে আছে। পুরনো ক্লাবে ফিরে তিনি যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন, তবে স্বীকার করেছেন, ২০১৩ সালে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার সময়কার ময়েসের সঙ্গে এখনকার ময়েসের পার্থক্য রয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘হয়তো এখন কিছুটা শান্ত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটাই স্বাভাবিক—আগের মতো সর্বদা উত্তেজিত থাকা সম্ভব নয়। আগের মতো প্রতিটি অনূর্ধ্ব-২১ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ম্যাচে যাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ম্যানেজারের কাজ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এখন বিশ্লেষণ, খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা, মিডিয়ার কাজ—সবকিছুই বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সব বদলায়, আপনাকে এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।’

ময়েস যোগ করেন, ‘অভিজ্ঞতা কখনও কখনও সহায়তা করে। মাঝে মাঝে আপনি নিজেকে শান্ত রাখতে পারেন, তবে কেউ যেন আমার শান্তভাবকে আবেগের অভাব হিসেবে না দেখে। আমি এখন আরও বেশি মানুষের সহায়তা নিচ্ছি, সবকিছু কেবল ম্যানেজারের উপর নির্ভর করে না। আমাদের অনেক কোচ রয়েছেন, আমরা একে অপরের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করি এবং সাহায্য করি। আমি কি বদলেছি? হয়তো কিছুটা। এখন আর প্রতিনিয়ত সবার সঙ্গে লড়াই করার প্রয়োজন অনুভব করি না, যা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মনে হতো।’

এদিকে, রুবেন আমোরিম ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩-৪-৩ ফর্মেশনের প্রতি অটল থেকেছেন, যদিও দলের পারফরম্যান্স ভালো হয়নি এবং স্কোয়াডও এই কৌশলের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে ময়েস মনে করেন, মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নিলে কিছুটা বাস্তববাদী হতে হয়। 

তিনি বলেন, ‘আমি কিছুটা পরিবর্তন এনেছি, কারণ যখন আপনি মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নেন, তখন আপনাকে সেরা ফলাফল পাওয়ার উপায় খুঁজতে হয়। আমাদের জন্য এটা জরুরি ছিল, কারণ আমরা টেবিলের নিচের দিকে চলে গিয়েছিলাম। তবে আমাকে বলতে হবে, খেলোয়াড়রা যাই করেছি, যাই বলেছি—সবকিছুই দুর্দান্তভাবে পালন করেছে। তারা তাদের কাজ অসাধারণভাবে করে যাচ্ছে।’

গত গ্রীষ্মে ইউনাইটেড এভারটনের ডিফেন্ডার জ্যারাড ব্র্যানথওয়েটকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল। এ প্রসঙ্গে ময়েস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনো ক্লাব তাকে দলে নিতে চায়, তবে ‘তাদের অনেক বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে আসতে হবে।’