সাফ সাফল্য ভুলে যেতে বললেন বাটলার

আমিরাতে দুটি প্রীতি ম্যাচে দেখা যাবে সম্পূর্ণ নতুন এক নারী জাতীয় দল। যে দলটা ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার গড়েছেন ভবিষ্যতের দিকে চোখ রেখে। এই দল নিয়েই তিনি চান দক্ষিণ এশিয়ার গন্ডি ছাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। রবিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তাই গত অক্টোবরে পাওয়া সাফের সাফল্য ভুলে যেতে বলেছেন আলোচিত এই কোচ।

বাটলারের এই দলে নেই সাফজয়ী ১৫ ফুটবলার। এত বছর যাদের দিয়েই বাংলাদেশকে চেনা যেত সেই সাবিনা, মারিয়া, মনিকা, মাসুরা, রূপনা, ঋতুপর্ণা, শিউলি, শামসুন্নাহাররা নেই এই দলে। বাটলারের অধীনে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ১৮ ফুটবলার। অগত্যা বাটলারকে দল গড়তে হয়েছে বয়সভিত্তিক দলে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে। আমিরাতে এই দলের নেতৃত্ব দেবেন সাফজয়ী দলে খেলা তরুণ ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার।

বাটলার বরাবরের মতো এই তরুণদের নিয়ে ধৈর্য ধরার কথা বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘এটা নতুন জাতীয় দল। নতুন লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। যারা আছে, তাদের নিয়ে দল সাজিয়েছি আমি। তাদের ভেতরে সম্ভাবনা রয়েছে। বেশিরভাগই অনূর্ধ্ব-২০ বছরের। শুধু মেধার ভিত্তিতে নয়, বাস্তব পরিস্থিতিও এর সঙ্গে জড়িত। আমি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে কোনো বিভেদ করি না। আমি শুধু জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেখি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যে পর্যায়ে আছি, সেটা নিয়ে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। এই দলটা নতুন, তাই ধৈর্য ধরতে হবে। তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।’

আমিরাতে দুই ম্যাচের লক্ষ্য জানাতে গিয়ে বাস্তববাদী হতে বলেছেন বাটলার, ‘আমরা সবাই জিততে চাই। আমি নিজেও যেকোনো খেলায় জয়ের জন্যই নামি। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। এই মেয়েরা তরুণ। ভবিষ্যতের জন্যই এই নতুন দল গড়া। এখানে মেয়েদের সুযোগ দেওয়াটাই আসল। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারিনি। আরও সময় পেলে ভালো হতো। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা সেখানে (আরব আমিরাতে) যাচ্ছি এবং যাদের নেওয়া হয়েছে, তারা সুযোগ পাচ্ছে।’

সাবিনাদের না থাকা মানে স্বাভাবিকভাবেই সেরা দল নিয়ে আমিরাত যেতে পারছেন না বাটলার। সেরা ১৮-র সঙ্গে বিরোধ নিয়ে গতকালও প্রশ্ন হয়েছে। বাটলার নিজের মতো করেই দিয়েছেন উত্তর, ‘দরজা সবার জন্যই খোলা আছে। আমার বয়স এখন ৫৪ বছর। আমি কোনো কিছু ধরে বসে থাকতে চাই না। আমি এগিয়ে যেতে চাই। তাদের মধ্যেও ৭-৮জন ফুটবলার রয়েছে যারা মেধাবী। আমি সবসময় ভালো ফুটবলারদের নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আর যারা সারা জীবন একই পর্যায়ে খেলতে চায়, তাদের নিয়ে আমি দল সাজাতে রাজি নই। আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট আমার সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয় এক কোণে বসে হতাশায় কান্নাকাটি করব, নয়তো পরিস্থিতি মেনে নিয়ে ইতিবাচকতার সঙ্গে এগোব। আমি ইতিবাচক থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাইরের আলোচনা আমাকে প্রভাবিত করে না।’ সাফের কথা ভুলে যেতে বলে বাটলার বলেন, ‘সাফের কথা ভুলে যান, সেটা এখন অতীত। সময় এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। পেছনে তাকানোয় ক্ষতি নেই, তবে পেছনে পড়ে থাকলে চলবে না। আমরা নতুন অধ্যায় লেখার চেষ্টা করছি।’

সাবিনার জায়গায় জাতীয় দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া আফিদা সাফ জানিয়েছেন যারা নেই তাদের অভাব তিনি অনুভব করছেন না, ‘আমি অভাব অনুভব করছি না কারণ আগেও আমি এদের (বর্তমান দলের সতীর্থদের) সঙ্গে খেলেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলে একই সঙ্গে খেলেছি। সিনিয়ররা যে ধাপে ধাপে অনুশীলন করেছে, আমরাও সেই ধাপে ধাপে অনুশীলন করেছি। আমাদের হয়তো একই রকম অভিজ্ঞতা নেই। তারা হয়তো অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছে, আমরা হয়তো কম খেলেছি। কিন্তু তাদের মতোই আমরা অনুশীলন করেছি। আমরাও একই ছন্দে খেলি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণও আস্থা রাখছেন নতুনে। সিনিয়র যারা নেই তাদের ভবিষ্যতে অনুশীলনে ডাকা হবে বলে জানান তিনি।