মোহামেডান যেন ফরচুন বরিশাল

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দলবদল সম্পন্ন হলেও চমক জাগানিয়া এক তথ্য হলো লিটন দাসের দল না পাওয়া। গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে খেলা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার এবারও কোনো দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি। গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে তিন ম্যাচে ৯৪ রান করেছিলেন লিটন, যার মধ্যে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেরা। তবে এবার নিবন্ধিত ১৬৫ জন ক্রিকেটারের তালিকায় তার নাম নেই।

শুধু লিটনই না। দলবদলের চূড়ান্ত এই তালিকায় ছিল না হাসান মাহমুদের নামও। টুর্নামেন্টের গত আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ১৪ ম্যাচে তিনি শিকার করেছিলেন ২৬ উইকেট। অবশ্য লিগ শুরুর আগে, ২ মার্চ পর্যন্ত দল পাওয়ার সুযোগ থাকছে তাদের সামনে।

এদিকে, দলবদলে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ফরচুন বরিশালের ঘরবসতি এবার গড়ে উঠেছে মোহামেডানে। বিপিএলে বরিশালের হয়ে খেলা তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, তাইজুল ইসলাম, তাওহীদ হৃদয়, ইবাদত হোসেন, ইকবাল হোসেন ইমনরা এবার খেলবেন ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের হয়ে। শক্তিশালী দল গড়ে শিরোপার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে মোহামেডান, এমনটাই জানিয়েছেন দলটির পেসার ইবাদত হোসেন।

গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কাগজে-কলমে তো খুব ভালো দল মোহামেডান। যে রকম ফরচুন বরিশালও ছিল কাগজে-কলমে এবং আলহামদুলিল্লাহ আমরা মাঠে ভালো খেলে চ্যাম্পিয়নও হয়েছি। সে হিসেবে মোহামেডান দলটাও ওভাবে করা হয়েছে যেখানে তামিম ভাই আছে, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই আছে, মুশফিক ভাই আছে, তাইজুল ভাই আছে, আমি আছি। ধরতে গেলে আমাদের ফরচুন বরিশালের বেশিরভাগ প্লেয়ারই ওখানে আছি। কাগজে-কলমে খুব ভালো টিম। এখন আমরা যদি মাঠে ভালো খেলতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ।’

গতবার রানারআপ হওয়া মোহামেডান এবার শিরোপার জন্যই দল গড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির কর্মকর্তা সাজ্জাদুল হক শিপন। ‘গত বছর আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু রানারআপ হয়েছি, চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। গত বছর আমাদের পরিকল্পনা ছিল, এই বছর আমরা আরও শক্ত দল বানিয়েছি। আমার মনে হয় এই বছর আমরা চ্যাম্পিয়ন হব’ বলেন তিনি।

অন্যদিকে, আবাহনী এবার অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে দল গড়েছে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে ধরে রাখার পাশাপাশি তারা দলে নিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুন ও মুমিনুল হক সৌরভকে। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট মাতানো মাহফুজুর রহমান রাব্বি, জিশান আলম, কাজী অনিক, শামসুল ইসলামদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে দলটি।

তবে দলবদলের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কমে যাওয়া। জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক কমে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মিঠুন স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো উন্নতি দেখছি না। সেটা বিপিএল হোক বা ডিপিএল। সৎ থেকে বললে, এটা প্রতিনিয়ত নিচের দিকেই যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জায়গায় উন্নতি হয়, আমাদের এখানে অবনতি হচ্ছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিন্তু এখন সব ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক কমেছে এবং সেটা বড় অঙ্কে কমেছে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমরা এটা আশা করি না। কতটা কমেছে সেটা ব্যক্তিগতভাবে বলব না, তবে সার্বিকভাবে যদি চিন্তা করেন, গত বছরের তুলনায় এবার ক্রিকেটাররা ৩০ শতাংশ পারিশ্রমিক পাচ্ছে কি না সন্দেহ আছে।’

তাইজুলও এই ইস্যুতে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আল্টিমেটলি টাকার জন্যই খেলে ক্রিকেটাররা। প্রত্যেকটা টুর্নামেন্ট থেকেই যখন টাকা কমে যায়, অবশ্যই এটা একটা দুঃখজনক বিষয়। শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটার না, অনেক ক্রিকেটার আছে যাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে পরিবার চালাতে হয়। তাদের জন্য পরিস্থিতি অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমার মনে হয়, ইনশাআল্লাহ এই পরিস্থিতি দ্রুত কেটে যাবে।’