অনুষ্ঠানের ব্যানারে নাম না থাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

বরগুনার বেতাগীতে অনুষ্ঠানের ব্যানারে নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় বেতাগী গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেতাগী গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক। পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান কবিরের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শোয়েব কবির অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানের ব্যানারে তার বাবার নাম দেখতে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে গালমন্দ করতে থাকেন। খবর পেয়ে শাহজাহান কবির তার লোকজন নিয়ে কলেজে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করতে থাকে। এ সময় শাহজাহান কবির ঘুষি দিয়ে হুমায়ুন মল্লিকের নাক ফাটিয়ে দেন। এ খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে হুমায়ুন মল্লিকের নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করে। তাদের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে নেয়।

আহত বেতাগী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শোয়েব কবির সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। 

বেতাগী গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহিন বলেন, কলেজের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে শাহজাহান কবিরকে দাওয়াত কার্ড দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তার বর্তমান কোনো দলীয় পদ না থাকায় ব্যানারে নাম রাখা হয়নি। এ কারণে তিনি ও তার ছেলে শোয়েব কবির লোকজন নিয়ে কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মল্লিক বলেন, ‘অনুষ্ঠানের ব্যানারে নাম না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির ও তার ছেলে শোয়েব সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। আমিসহ আমার দলের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। হামলার বিষয়টি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। 

বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যানে মো. শাহজাহান কবির বলেন, আমার বড় ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শোয়েব কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বেতাগী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির লোকজন নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কথাক কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হলে আমার ছেলের মাথায় আঘাত পায়। এখন সব মিটমাট হয়ে গেছে।

বেতাগী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বেতাগী গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।