২০২৭ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রতিরক্ষা খরচ বাড়িয়ে জিডিপির ২.৫ শতাংশ করবে যুক্তরাজ্য। ইউরোপের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি এবং রাশিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খরচ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে। যাতে ইউরোপকে আরও সহায়তা দেওয়া যায়। স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বাজেট ২০২৭ সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রতিরক্ষায় খরচ হবে প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিরক্ষা খরচ বৃদ্ধির জন্য তহবিল সংগ্রহ প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য তার আন্তর্জাতিক সহায়তা বাজেট ৪০ শতাংশ কমিয়ে সেটি প্রতিরক্ষা খাতে খরচের পরিকল্পনা করছে। ২০২৭ সালে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাজেট জিডিপির ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশে নামানো হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। আমি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে, সমস্ত ইউরোপীয় মিত্রদের আমাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য আরও বেশি কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক নিরাপত্তার নতুন যুগ সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণাকে প্রয়োজনীয় মনে করেছেন তিনি।
এর আগে, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কভিড-১৯ মহামারীর ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকটের সময় যুক্তরাজ্য সহায়তা বাজেট কমিয়ে ০.৭ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ করেছিল। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন স্টারমার। সেখানে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা, ইউরোপের কিয়েভকে সমর্থন এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কিয়ার স্টারমার। সেই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোকে ন্যাটো সামরিক জোটকে আরও সমর্থন দেওয়ার জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের দেশগুলোকে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।