কোরিয়ার সঙ্গে হবে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

বাংলাদেশের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কোরিয়ার সহায়তায় বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তিনটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) আমন্ত্রণে বিসিআই কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধূরী পারভেজের সভাপতিত্বে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে শিল্প ও ব্যবসা ক্ষেত্রে পরস্পরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এ সময় আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি প্রীতি চক্রবতী, পরিচালক চৈতন্য কুমার দে (চয়ন) এবং যেয়াদ রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঈনুল ইসলাম বক্তব্য দেন। বিসিআইয়ের মহাসচিব বিসিআইয়ের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন।

বিসিআই সভাপতি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির শুরুর সময়কার দিকে কোরিয়ার ভূমিকা স্মরণ করেন। বিসিআই সভাপতি বলেন, কোরিয়ার মতো কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ দেশ থেকে দক্ষ প্রশিক্ষক এনে দেশে প্রশিক্ষক তৈরি করতে চাই। এই প্রশিক্ষকরা পরে সারা দেশে দক্ষ কর্মী ও ব্যবস্থাপক তৈরি করবে এবং দক্ষ জনবলের যে স্বল্পতা আছে, তা নিরসন করতে সহায়তা করবে। বিসিআই সভাপতি দেশে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি, কোর্স কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সক্ষমতা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য কোরিয়ার সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাগ্রো প্রসেসিং, আইসিটি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোরিয়ান সহায়তা খুবই দরকার।’ তিনি বলেন, ‘কোরিয়ার ভাষা শেখারও ভালো সুযোগ-সুবিধা দরকার।’

পার্ক ইয়ং সিক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে ১৯৭৩ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ ও কোরিয়া একত্রে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আগ্রহী।