বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যখন খেলা শুরু হলো, কেউ ভাবেনি যে কোপা দেল রে’র সেমিফাইনালের এই প্রথম লেগ এমন নাটকীয় রূপ নেবে। মাত্র ৪৬ সেকেন্ডেই আতলেতিকো মাদ্রিদ এগিয়ে গেল হুলিয়ান আলভারেজের গোলে। ছয় মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন আন্তোইন গ্রিজমান। তখন মনে হচ্ছিল, আতলেতিকো সহজেই ম্যাচ বের করে নেবে।
কিন্তু বার্সেলোনা তো বার্সেলোনাই! প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। পেদ্রি, পাউ কুবার্সি ও ইনিগো মার্তিনেসের গোল বার্সাকে এগিয়ে দেয় ৩-২ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে রবার্ট লেভানডফস্কির গোল ব্যবধান বাড়িয়ে তোলে ৪-২। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ।
৮৩ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই বলা যায় না! আতলেতিকো মাদ্রিদের লড়াকু মানসিকতা যেন নতুন করে প্রাণ পেল। ৮৪ মিনিটে ইয়োরেন্তে এক গোল শোধ দিলেন, আর অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে বদলি নামা আলেকসান্দার সরলথের গোলে ৪-৪ সমতা! এই সরলথ গত ডিসেম্বরে এই মাঠেই ৯৬ মিনিটে গোল করে লা লিগার খেলায় বার্সেলোনাকে হারিয়েছিল (২-১)।
বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক হতাশ। তার মতে, দলের রক্ষণে মনোযোগের অভাব ছিল। ‘আমি খেলোয়াড়দের সাবধান করে বলেছিলাম ওরা যেন প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ তৈরি করতে না দেয়। আমি ফলাফলে হতাশ কারণ, শুরুতে দুটি গোল হজমের পর আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম তা দুর্দান্ত ছিল। এমনকি ৪-২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম... কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়ে গেছে, কারণ শেষ কয়েক মিনিটে আমরা ওদের ঘুরে দাঁড়াতে দিয়েছি’ বললেন ফ্লিক। তার ভাষায়, বার্সেলোনার মতো দলের জন্য চার গোল খাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ড্রয়ের ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াই এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। ২ এপ্রিল আতলেতিকোর মাঠে ফিরতি লেগে যে নতুন উত্তেজনা অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য! ফ্লিক বলেছেন, ‘মেত্রোপলিতানোতে আমরা জিততে পারি।’