সাঁতারে আসছেন তিন বিদেশি কোচ

বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের নেতৃত্বে এসেছে পরিবর্তন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ফিরেছেন মাহবুবুর রহমান শাহীন। দায়িত্বে এসেই দেশের সাঁতারের স্থবিরতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। বুধবার ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির প্রথম সভাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে তিনজন বিদেশি কোচ নিয়োগের। সাঁতার, ওয়াটার পোলো ও ডাইভিংয়ের জন্য আলাদা আলাদা বিদেশি কোচ নিয়োগ দেবে ফেডারেশন। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাধারণ সম্পাদক শাহীন।

সাঁতারে অতীতে অনেক বিদেশি কোচ কাজ করেছেন। তবে ওয়াটার পোলো ও ডাইভিংয়ে আগে কখনো বিদেশি বিশেষজ্ঞ কোচ দেখা যায়নি। এবার ফেডারেশন তিনটি খেলার জন্যই নিতে চাইছেন হাই প্রোফাইল কোচ। শাহীন বলেন, ‘আমরা এমন কোচ আনতে চাই, যারা শুধু জাতীয় দল নয় প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সবস্তরে কাজ করতে রাজি হবেন। সত্যি বললে আমাদের প্রতিভাবান সাঁতারুর মারাত্মক সংকট রয়েছে। সেই সংকট কাটাতে আমাদের অতি দ্রুত প্রতিভা অন্বেষণের পথে হাঁটতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে একটি কমিটি করেছি, যাদের দায়িত্ব দেশব্যাপী কী করে ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচি করা যায় তার একটি রূপরেখা ঠিক করতে।’

কোচ খোঁজার ক্ষেত্রে শাহীন এশিয়ার শীর্ষ দেশগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার কথা বলেছেন, ‘আমরা জাপান, কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো থেকে কোচ আনতে চাই, যাদের অলিম্পিক পর্যায়ে কাজ করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ সম্প্রতি পাকিস্তানের লাহোরে সাউথ এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের সভায় এসএ গেমসের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের তিন শহরে হবে এ আসর। তবে শাহীন চোখ রাখতে চাইছেন আরও দূরে। এই এসএ গেমসকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চাইছেন না তিনি, ‘১৩ বছর আগে যখন দায়িত্ব ছেড়ে গিয়েছিলাম, তখন দেশে যথেষ্ট সাঁতারু ছিল। এত বছর পর ফিরে এসে একটা জিনিস খুব খারাপ লাগছে। আমাদের প্রতিভাবান সাঁতারুর ভীষণ সংকট। বিশেষ করে নারী সাঁতারু নেই বললেই চলে। তাই আমরা একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে এগোতে চাইছি। আমরা দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে এ রকম সাঁতারু বেছে নিতে চাই, যাদের উচ্চতা ও শারীরিক গড়ন ভালো থাকে। তারা যদি ভালো সাঁতার নাও জানে সমস্যা নেই। আমরা তাদের ভালো সাঁতারু বানাব। তাই বিদেশি কোচও নেওয়া হবে দীর্ঘমেয়াদের জন্য। যারা একই সঙ্গে স্থানীয় কোচদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।’

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তা নিয়েই দেশের জন্য কোচ খুঁজে নেওয়া হবে বলে জানান শাহীন। এদিকে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে ফেডারেশন এমন দুজন সাঁতারুকে পাঠাতে চাইছে, যাদের দৈহিক গড়ন এবং বয়সে তরুণ হয়। শাহীন বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের একজন সাঁতারু রাফি আন্তর্জাতিক সংস্থার বৃত্তি নিয়ে এখন থাইল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে। তার টাইমিংও ভালো। এখন আমরা যদি তাকেই বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে পাঠাই, তাহলে হয়তো সে ভালো টাইমিং করবে, তবে আমরা অন্যদের গড়ে তোলার সুযোগ হারাব। কারণ এই আসরে অংশগ্রহণ করলে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ থাকে। রাফি এমনিতেই স্কলারশিপ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছে। তার জায়গায় যদি অন্য কাউকে, যার দৈহিক উচ্চতা ও গড়ন ভালো এবং বয়স কম, পাঠানো যায়, তবে সেও স্কলারশিপ নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে।’

শাহীন একই সঙ্গে সারা দেশে সাঁতারকে চাঙ্গা করার জন্যও কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছেন, ‘আমার জানা মতে সারা দেশে প্রায় ৩৬টি সুইমিং পুল রয়েছে, যেগুলো বেহাল অবস্থা। এসব পুল বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর অধীনে। আমি অচিরেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে চিঠি দেব, যাতে এই পুলগুলো ফেডারেশনের অধীনে দেওয়া হয়। সেটা পেলে আমরা কম খরচে বিভিন্ন জেলায় ট্যালেন্ট হান্ট করতে পারব। আমার কথা হলো, এক জেলায় ট্যালেন্ট হান্ট করে ২০ জন সাঁতারুর মধ্য থেকে যদি একজনও বের হয়ে আসে তাহলেই আমাদের সংকট কেটে যাবে।’

শাহীনের শেষ কথাটায় আশান্বিত হওয়াই যায়, ‘দেশে সাঁতারু ভীষণ সংকট। আমার প্রথম কাজ হবে সাঁতারু সংকট কাটানো। সেটাই যদি করতে না পারি তাহলে এই শাহীনের থেকে লাভ কি?’ কথার সঙ্গে কাজটা ঠিকঠাক শাহীন করতে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।