বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল ‘সম্মান’ও

ভারত আর নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। নিয়ম রক্ষার ম্যাচে বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল এ দুই দলের। তবে অর্থহীন এই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াতে দেয়নি প্রকৃতি। অঝোর বৃষ্টিতে বিকেলেই ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন আম্পায়াররা। তাতে শেষ ম্যাচ জিতে ‘সম্মান’ নিয়ে শেষ করার সুযোগ হারাল দুই দলই। অবশ্য মাঠের খেলায় একদমই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে না পারা দুই দলের ‘সম্মান’ কতটা অবশিষ্ট আছে সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই বিশেষজ্ঞ হিসেবে আসছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস থেকে শুরু করে শোয়েব আখতার, মোহাম্মদ হাফিজ কেউ বাদ নেই। টিভি ক্যামেরায় তারা পাকিস্তানের ক্রিকেটার, ক্রিকেট প্রশাসনের কর্তাদের যেভাবে সমালোচনা করছেন, সেসব শুনলে তারা লজ্জায় মুখ লুকাবেন। শোয়েব আখতার বাবর আজমকে বলেছেন ভ-। বলেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই, টাকা পেয়েছেন তাই ক্যামেরার সামনে কথা বলছেন। পয়েন্ট ভাগাভাগিতে পাওয়া ১ পয়েন্টই সম্বল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। তবে রানরেটের ভগ্নাংশের পার্থক্যে বাংলাদেশ এগিয়ে (!),-০.৪৪৩ রানরেট নিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় আর-১.০৮৭ রানরেট নিয়ে পাকিস্তান চতুর্থ।

চোখে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়া আর কোনো ম্যাচ না জিতেই দেশে ফেরা, এই দুইয়ের মধ্যে প্রাপ্তি প্রায় দেড় কোটি টাকা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের জন্যই ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে আইসিসি, তাই নিয়েই খুশি বাংলাদেশ। ওদিকে আফগানরা যে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ৩৪ হাজার ডলার পকেটে পুরেছে, সেসব দেখে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বলতে পারেন, ‘দেখিস, একদিন আমরাও।’

শান্ত অবশ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আশার বাণী শুনিয়েছেন বৃষ্টিভেজা বিকেলে। ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাকে বলেছেন, ‘(অনেক বেশি ডট বল খেলা) অবশ্যই আমাদের চিন্তার কারণ। নেটে আমাদের ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে। কীভাবে প্রান্ত বদলাতে পারি, ম্যাচে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, সেসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে। আমরা কীভাবে অনুশীলন করছি এবং ম্যাচে সেটা কতটা কাজে লাগাচ্ছি, তা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, ছেলেরা বুঝতে পারবে, কী করা উচিত।’

ভারতের কাছে হার ছয় উইকেটে, নিউজিল্যান্ডের কাছে হার পাঁচ উইকেটে। দুটো ম্যাচের কোনোটিতেই জেতার মতো সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবুও সন্তুষ্টি শান্তর কণ্ঠে, ‘আগের দুই ম্যাচ যদি দেখেন, আমরা হয়তো হেরে গেছি, তবে যেভাবে লম্বা সময় খেলা ধরে রেখেছিলাম, খুব প্রেরণাদায়ী আমাদের জন্য। যেসব ছোট ছোট ভুল করেছি, সামনের দিনে সেসব নিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা করব এবং ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করব। ভালো বিষয় হলো, দুই ম্যাচেই আমরা ভালো ঘুরে দাঁড়িয়েছি এবং লম্বা সময় খেলায় ছিলাম।’

দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের মোট ১০ উইকেট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ, যার ভেতর পাঁচটি নিয়েছেন পেসাররা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন বলে দুটো উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন ও নাহিদ রানা, ভারতের বিপক্ষে পেসাররা ছিলেন খরুচে। তবুও এই বোলিং নিয়ে আশার আলো দেখেন শান্ত, ‘(পেস বোলিং নিয়ে) খুবই খুশি। আমরা সবসময় বোলিংয়ে ধুঁকতাম। বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে। তবে গত কয়েক বছরে অনেক ফাস্ট বোলার উঠে এসেছে। দেশে থাকা কয়েকজন পেসারও নিজেদের কাজটা দারুণভাবে করছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি খুব খুশি। তাসকিন, রানা যেভাবে বোলিং করছে আমি সত্যিই আনন্দিত। এ ছাড়া অভিজ্ঞ মোস্তাফিজও আছে।’

নাহিদ রানা বাদে তাসকিন এবং মোস্তাফিজের জন্য এমন পারফরম্যান্স আসলে কোনো সাফল্যের পর্যায়েই পড়ে না। তবুও যখন এসব করেই অধিনায়কের স্তুতি শুনতে পান, তাতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের ক্রিকেট কোন স্তরে আছে। এখানে পারফরম্যান্স না করেই তারকা হওয়া যায়, ভালো না খেলেও অর্থকড়ি পাওয়া যায়, কোনো অর্জন ছাড়াই বিখ্যাত হওয়া যায়। তাই তো এসবের জন্য কেই বাড়তি পরিশ্রম করতে আগ্রহী নন।