শরীয়তপুরে ডাকাতের গুলিতে আহত ৪, গণপিটুনিতে ২ ডাকাত নিহত

শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ডাকাতের গুলিতে ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৮ ডাকাতকে গণপিটুনির পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে সদর হাসপাতালে আনলে ২ ডাকাতের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বাকি পাঁচ ডাকাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। 

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে ও শনিবার সকালে কীর্তিনাশা নদীর  ডোমসার ইউনিয়নের তেতুলিয়া ও তুলাসার ইউনিয়নের আড়িগাঁও এলাকা থেকে ডাকাতদের আটক করা হয়।

তবে, চার ডাকাতের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার  বানিয়াল মহেষপুর এলাকার সানাউল্লাহ গাজির ছেলে রাকিব গাজি (৩৮), কালীর চর এলাকার বাচ্চুর ছেলে রিপন (৪০), মাদারীপুর জেলার কুতুবপুর এলাকার হারুন তালুকদারের ছেলে সজিব তালুকদার (৩০), শরীয়তপুরের জাজিরার কুন্ডেরচর এলাকার  মোহাম্মদ দেওয়ানের ছেলে আনোয়ার দেওয়ান (৫০)। এরমধ্যে রিপন ও সজিব নামের দুই ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে নিহত ডাকাতদের মরদেহ ও আলামত শনাক্ত করতে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করছে ফরিদপুর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট (সিএসইউ)। 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মাদারীপুর জেলার রাজারচর এলাকায় সংঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত দল বাল্কহেড ডাকাতির চেষ্টা করে। পরে তাদের ধাওয়া দেয় বাল্কহেড শ্রমিক ও স্থানীয়রা। ডাকাতরা স্পিডবোট নিয়ে পালিয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেতুলিয়া এলাকায় আসলে স্থানীয়রা তাদের গতিপথ রোধ করে বাল্কহেড দিয়ে। এসময় ডাকাতরা হাতবোমা ও এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আহত হয় বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোকজন। পরে ডাকাতরা বোট ফেলে পালানোর সময় ৭ জনকে আটক শেষে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে ২জন ডাকাতকে মৃত্যু ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরবর্তীতে শনিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার আড়িগাঁও এলাকা থেকে আরও এক ডাকাতকে আটক করা হয়।  

এছাড়াও ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে ৪ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, মাদারীপুর জেলায় ডাকাতের গুলিতে ৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি কাটা রাইফেল ও একটি শর্ট গান উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ডোমসার এলাকার রুবেল শিকদার বলেন, ডাকাতরা স্পিড বোট দিয়ে ডোমসার ইউনিয়নের তেতুলিয়া এলাকার হিরা ইটের ভাটার কাছে আসলে স্থানীয় লোকজন বেরিকেট দেয়। তখন ডাকাত দল এলোপাতাড়িভাবে গুলি করতে থাকে। এক পর্যায়ে স্পিড বোট থেকে নেমে পালাবার চেষ্টা করে ডাকাতরা। পরে স্থানীয় লোকজন ডাকাতদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। 

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মুনতাসির খান বলেন, ডাকাতদের গুলিতে ৪জন সাধারণ মানুষ আহত হয়ে প্রথমে হাসপাতালে আসে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় ৮ ডাকাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে দুই ডাকাতকে মৃত্যু অবস্থায় পাওয়া যায়। 

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজন ৮ ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে আমরা ডাকাতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ সদস্যরা। ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি কাটা রাইফেল ও একটি শর্ট গান উদ্ধার করা হয়েছে। শুনেছি নিহত ডাকাতদের মরদেহ ও আলামত শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শনে এসেছে ঢাকার সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট।

এসপি বলেন, ডাকাতরা আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও হত্যা মামলা রয়েছে। আর ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতদের বিরুদ্ধে  মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।