শেভ করতে গিয়ে একটু অসাবধানতায় গাল কেটে ফেলার অভিজ্ঞতা কম বেশি সব পুরুষেরই আছে হয়ত। আবার নির্বিঘ্নে শেভ করার পরও অনেক সময় ভুগতে হয় ত্বকের নানা সমস্যায়। পুরুষের মুখশ্রী সুন্দর রাখতে নিয়ম করে শেভ করার প্রয়োজন পড়ে। পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি চেহারার জন্য তাই নিয়মিত কামিয়ে রাখতে হয় দাড়ি-গোঁফ। ত্বকের ধরণ অনুযায়ী নানা কারণে শেভ করার পর নানা জটিলতায় ভুগতে হয়। তাই শেভ করার সময় মেনে চলতে হবে কিছু সতর্কতা-
শেভিং ক্রিম ব্যবহার করা
শেভ করার ক্ষেত্রে পানি ভালো কাজে দেয়, তবে ফেনা ওঠে এমন ভালো মানের শেভিং ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো। এতে ত্বকে রেজরের কাটাছেঁড়ার হাত থেকে বাঁচা যায়। শেভ করে ফেলার পর অনেকের লালভাব, জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হয়। ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শেভিং ক্রিম ব্যবহারের ফলে এটা অনেকটাই কমে আসে। কোনো কারণে শেভিং ক্রিম ফুরিয়ে গেলে এ ধরনের হালকা ও ক্রিমযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করা যায়।
প্রতি শেভে নতুন রেজর
শেভ করার পর, পরবর্তী ব্যবহারে চেষ্টা করতে হবে নতুন রেজর ব্যবহার করার। কারণ, পুরোনো রেজর যেমন ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তেমনি এতে সময়ও লাগে বেশি। পুরোনো রেজর ব্যবহারের কারণে ত্বকে জ্বালা ভাব হতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে তিনবার ব্যবহারের পর পুরোনো রেজরটি ফেলে দিতে হবে।
একই জায়গায় একবার রেজর চালাতে হবে
অনেকেই ভাবেন ত্বকের একই স্থানে একাধিকবার রেজর চালালে বা সোয়াইপ করলে মসৃণ, সুন্দর ও মোলায়েম ত্বক পাওয়া যাবে। কিন্তু সেটা করতে গেলে উল্টোটা হয়। একই জায়গায় বারবার রেজর চালালে ত্বকে জ্বালা ভাব হতে পারে। যার ফলে ফুসকুড়ির পাশাপাশি লাল ভাব ও শুষ্কতাও দেখা দেয় ত্বকে। অব্যবহৃত দুই থেকে তিন ব্লেড রেজর দিয়ে একটিমাত্র সোয়াইপই ত্বকের জন্য যথেষ্ট।
ত্বকের জ্বালাপোড়া-
রেজরের ব্লেড ত্বকে জ্বালাপোড়ার অন্যতম কারণ। সাধারণত ব্লেড ভোঁতা বা কম ধারালো হলে এমন সমস্যা হয়। তাছাড়া শুষ্ক ত্বকে শেভ কিংবা তাড়াহুড় করলে শেভিংয়ে এমনটা হতে পারে। এমন সমস্যা এড়াতে শেভিংয়ের আগে ত্বক ভালোভাবে ভিজিয়ে নিন। শেভিং শেষে ত্বক শীতলকারী ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। কদিন পর রেজরের ব্লেড বদলে নিন।
হালকা কাটাছেঁড়া
শেভিংয়ে তাড়াহুড়া, ধারালো ব্লেড ব্যবহার বা ভোঁতা ব্লেডে ঘষাঘষির কারণ ত্বকের চামড়া উঠে যাওয়া বা কেটে যেতে পারে। এমন সমস্যা এড়াতে ধারালো ব্লেড ব্যবহারে সতর্ক হন। ত্বকে বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না। একই অংশে যথাসম্ভব কম রেজর চালান।
ইনগ্রোন হেয়ার-
শেভিংয়ের সময় লোমের কোনো অংশ গোড়া থেকে কাটা না হলে তা ত্বকের ফলিকলের মধ্যে বড় হতে থাকে। এতে করে অনেকটা বড় আকারের ব্ল্যাকহেডসের সৃষ্টি হয়। অনেকে টুইজারের সাহায্যে ইনগ্রোন হেয়ার তুলে ফেলেন, যা ঠিক নয়। এমন সমস্যার সমাধানে শেভিংয়ের আগে স্ক্রাবার ব্যবহার করুন।