সিলিন্ডার বিস্ফোরণ স্বামী-স্ত্রী দগ্ধ, হাসপাতালে ভর্তি

ধামরাইয়ে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১২টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কুমড়াইল মহল্লায় কুববাতের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

আহতরা হলেন- ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া আসিফ (২৮) ও তার স্ত্রী শান্তা (২১)। আসিফ পেশায় একজন রিকশাচালক ও স্ত্রী শান্তা একটি গার্মেন্টস এ শ্রমিকের কাজ করেন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, রাত প্রায় ১২টার দিকে হঠাৎ কুববাতের বাড়িতে বিকট আওয়াজ শোনা যায়। বাড়ির মালিক কুববাত ও স্থানীয়রা এসে দেখে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে আগুন লেগেছে। কক্ষটিতে থাকা দগ্ধ দম্পতিকে বের করে আনা হয়। সে সময় তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে গেছে। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল রানা জানান, গ্যাস সংকট থাকায় তারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতেন। সিলিন্ডারটি অক্ষত পাওয়া গেলেও গ্যাস পরিবাহী পাইপ পোড়া পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ও বাড়ির দেয়াল গ্যাস বিস্ফোরণে ভেঙে পড়েছে। তবে তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে আসলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়েছে।

রজ্জব আলী নামে কুববাতের বাড়ির এক ভাড়াটিয়া বলেন, বিকট আওয়াজ শুনে আমরা এসে দেখি আগুন লেগেছে। তারপর আগুন নেভাই অনেক কষ্ট করে। ওই কক্ষে থাকা আসিফ ও শান্তাকে বের করে আনা হয়। দেখি তাদের শরীরের অনেক জায়গা ঝলসে গেছে। পরে সকলে মিলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বাড়ির মালিক কুববাত আলী বলেন, আমি জানতাম না গ্যাস লাইনে সমস্যা আছে। গ্যাস বিস্ফোরণে নিচ তলার ভাড়াটিয়া আসিফ ও শান্তার ক্ষতি হয়েছে। তারা দু’জনই ভাড়াটিয়া। তবে এর আগেও আপনার বাড়িতে একই ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু আপনি কেন কোনো ব্যবস্থা নেননি এমন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

ধামরাই থানার এসআই শামীম হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসে দেখি ঘরবাড়ি ভাঙা। তবে দগ্ধ স্বামী স্ত্রীকে পাইনি। যতটুকু জানতে পেরেছি দগ্ধ দুইজনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয় পরে অবস্থা বেগতিক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়েছে। গ্যাস লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি কুববাতের বাড়িতে ওই একই কক্ষে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের গার্মেন্টস কর্মী মঞ্জুরুলসহ তার পরিবারের ৫ জনই মারা গিয়েছিল।