নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে ভারত-নিউজিল্যান্ড দুই দলেরই। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। এমন ম্যাচে ব্যর্থ ভারতের টপ অর্ডার।
নিউজিল্যান্ডের পেস আগুনের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি শুভমান গিল, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। তবে বিপদে পড়া ভারতকে টেনে তোলেন অক্ষর প্যাটেল ও শ্রেয়াস আইয়ার জুটি। দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে হাঁটলেও শেষ পর্যন্ত ৭৯ রানে থামতে হয়েছে আইয়ারকে। হার্দিক পান্ডিয়ার ৪৫ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২৪৯ রান তোলে ভারত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে ২৫০ রান করতে হবে নিউজিল্যান্ডকে।
দুবাইয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই গিলের উইকেট হারায় তারা। ম্যাট হেনরির গুড লেংথ ডেলিভারি মিস করে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। রোহিতের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউ নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি ২ রান করা গিলের। আরেক ওপেনার রোহিতও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ভালো শুরু পেলেও ১৭ বলে ১৫ রান করেছেন তিনি। কাইল জেমিসনের অফ স্টাম্পের বাইরের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ইয়াংকে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন রোহিত।
পরের ওভারে আউট হয়েছেন বিরাট কোহলিও। হেনরির ডেলিভারি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরের বলে দারুণভাবে কাট করেছিলেন তিনি। গুলির বেগে যেতে থাকা বলটি ঝাঁপিয়ে পড়ে লুফে নেন পয়েন্টে থাকা গ্লেন ফিলিপস। কিউই ফিল্ডারের এমন ক্যাচ নেয়া যেন বিশ্বাসই করে উঠতে পারছিলেন না কোহলি। ফিলিপসের অবিশ্বাস্য ক্যাচে ওয়ানডেতে নিজের ৩০০তম ম্যাচে ১১ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
কোহলি ফেরার পর আইয়ার ও অক্ষর মিলে জুটি গড়ে তোলেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা দুজনে মিলে ৯৬ রান যোগ করেন। জুটির সেঞ্চুরি হওয়ার আগে সাজঘরে ফেরেন অক্ষর। বাঁহাতি স্পিনার রাচিনের মিডল ও লেগ স্টাম্পের ডেলিভারিতে অন সাইডে খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দিয়েছেন। হাফ সেঞ্চুরির খুব কাছে যাওয়া অক্ষর আউট হয়েছেন ৪২ রানে। তবে সাবধানী ব্যাটিংয়ে ৭৫ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন আইয়ার। তবে তাকে সেঞ্চুরি করতে দেননি উইলিয়াম ও’রুর্কি।
ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ইয়াংকে ক্যাচ দিয়েছেন। আইয়ারের ব্যাট থেকে এসেছে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লোকেশ রাহুলও। মিচেল স্যান্টনারের বলে লাথামকে ক্যাচ দিয়ে গেছেন ২৩ রান করা উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন হার্দিক। যদিও তাদের জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। হেনরির বলে ১৬ রান করে আউট হয়েছেন জাদেজা। তবে হার্দিকের ৪৫ রানের ইনিংসে সুবাদে ২৪৯ রানের পুঁজি পায় ভারত। কিউইদের হয়ে একাই ৫ উইকেট নিয়েছেন হেনরি। ৯০ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বার ৫ উইকেট পেলেন তিনি।