রমজানের দুই চোখেই অন্ধকার, টাকার অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা

লক্ষ্মীপুরে জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে রমজান আলী শরীরে বিভিন্নস্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ সময় ছাত্র-জনতার দুই শতাধিক আহত ৪ জন শহিদ হন। এদের মধ্যে দিন মজুর রমজান আলী একজন। তার শরীর থেকে কয়েকটি গুলি বের করা হলে ও এখনও ফুসফুসে রয়েছে একটি গুলি। বর্তমানে ফুসফুসে গুলি নিয়ে জীবন কাটছে রমজানের। টাকার অভাবে পাচ্ছে না সুচিকিৎসা। রমজানের চিকিৎসা চালাতে না পেরে পরিবারের মধ্যে রয়েছে দুঃচিন্তা। এতে করে ক্ষোভ বাড়ছে আহত শিক্ষার্থীদের।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক বলছেন, হতাহতের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আহতদের দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা করা হবে। এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থী জনতার ও শহিদ পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন।

আহত স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী। বর্তমানে বয়স তার ৪৮। ২০ বছর ধরে শহরের বিভিন্নস্থানে শ্রমিকের কাজ করে জীবন–জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সংসারে রয়েছে মা-বাবা, স্ত্রী, দুই সন্তানসহ ছয় সদস্য। প্রতিদিন কাজ করে আয় হতো ৫০০-৬০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে কোনও রকম তার সংসার চলে।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। এর প্রভাব পড়ে লক্ষ্মীপুরেও। ৪ আগস্ট সকালে কাজের সন্ধানে বের হন রমজান আলী। লক্ষ্মীপুর শহরে প্রতিদিন মিছিল চলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার। এদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা শহরের ঝুমুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে উত্তর তেমুহনী এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা মিছিল বের করে। এ সময় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে গুলি করতে করতে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তমিজ মার্কেট তিতাখাঁ মসজিদ এলাকায় জেলা যুবলীগ নেতা এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, তার বাহিনী গুলিতে আহত হয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় রাস্তা থেকে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে রমজান আলী নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। দীর্ঘ আড়াই মাস ঢাকায় চিকিৎসার পর শরীর থেকে দুটি গুলি বের করলে ও ফুসফুসের একটি গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে স্বাভাবিক চেলাফেরা ও কাজকর্ম করতে পারছেন না রমজান আলী। এতে করে সংসারে নেমে আসছে চরম অভাব-অনটন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন তিনি। রমজান আলী বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জামায়াত-বিএনপি সহযোগিতা না করলে হয়তো মারা যেতেন তিনি। এখন আর কেউ খবর নেয় না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা চলছে না।

পুলিশ সুপার আকতার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেখানে ২৫৯ জন আহত এবং ১৬ জন শহিদের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুর শহরে ১২ জন ঢাকায় শহিদ হন। তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি হতাহতের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ।

জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার বলছেন, হতাহতের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আহতাদের দেশে ও বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থী ও শহিদ পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। জড়িতরা শাস্তির আওতায় আসবেই।