বগুড়া

ইফতারে পছন্দের শীর্ষে ‘টক দই’, ১৫ কোটি বিক্রির আশা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৫:৫০ পিএম

বগুড়ায় রমজান এলেই ইফতারে দইয়ের কদর বেড়ে যায়। বাড়ির ছোট থেকে বড় সবারই পছন্দ টক দই। তাই রমজানে প্রতিটি দোকানে মিষ্টি দইয়ের তুলনায় টক বা সাদা দইয়ের পশরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। জেলা শহর ও উপজেলার প্রায় দুই হাজার দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব দই। এ বছর রমজানের আগেই গরুর দুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় দইয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাই সব মিলিয়ে ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকার টক দই বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার সদর, গাবতলী, শেরপুর, কাহালু, নন্দীগ্রাম, ধুনট, দুপচাঁচিয়া, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও শিবগঞ্জে সব ধরনের দইয়ের কারখানা রয়েছে। সারা বছর টক দই উৎপাদন কম হলেও রোজায় বেশি হয়। সবচেয়ে বেশি দই উৎপাদন হয় শেরপুর উপজেলায়। আর ইফতারে দইয়ের জন্য শহরের মানুষের ভরসা ঐতিহ্যবাহী আকবরিয়া হোটেল, সেলিম হোটেল, শ্যামলী হোটেল, কোয়ালিটি হোটেল, মহররম দই ঘর, শেরপুর দইঘর, রিফাত দইঘর, মিষ্টিমেলা, রুচিতা, মিষ্টিমহল, ঘোষ দইঘর, পিংকি সুইটস, খাজা দইঘর, মডার্ন দইঘর সহ শহরের সাত মাথা এলাকার দোকানগুলো।

সরেজমিনে বগুড়া শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, গোহাইল রোড, স্টেশন সড়ক, কাঁঠালতলা, ফতেহ আলী বাজার, চেলোপাড়া, জলেশ্বরীতলা, বাদুরতলা, কালিতলা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার দইয়ের দোকানগুলোয় এখন মিষ্টি দইয়ের তুলনায় টক দইয়ের কদর বেশি। যেহেতু পানীয় বানাতে টক দইয়ের জুড়ি মেলা ভার।

ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়ায় টক দইয়ের হাঁড়ি বা আকার ভেদে শহরে দোকানগুলোয় ৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ফুটপাতে ৫০ থেকে শুরু করে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

শহরের আকবরিয়া দই বিপণন শাখার ম্যানেজার ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারাবছর আকবরিয়ার দই বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের শাখা রয়েছে। এ বছর আকবরিয়াতে টক দই বিক্রি হচ্ছে ৯০ ও ১৮০ টাকায়। আর ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজি।

ছবি: প্রতিনিধি

শহরের স্টেশন রোডের মহররম আলী দইঘরের ফয়জুল ইসলাম সাকিব বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী দই সরবরাহ করা হয়। আকারভেদে সাদা ৮০ টাকা ও ১৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।

শহরের কাঁঠালতলা এলাকার ফুটপাতে ভাঁড়ে করে দই বিক্রি করা গাবতলীর মিথুন ঘোষ ও চেলোপাড়ার মৃগেন জানান, তারা বাড়িতে দই তৈরি করে তা শহরে এনে বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ১০০ পিসের মত বিক্রি হয়। ছোট হাড়ি ৬০ টাকা ও বড় হাড়ি ১২০ টাকা করে বিক্রি করে থাকেন তারা।

ফতেহ আলী বাজারের মডার্ন দই ঘরের রঞ্জন ঘোষ বলেন, এবার দুধের দাম বেশি। তাই বেশি দামে বেচতে হচ্ছে। তবে রমজান মাসে টক দইয়ের চাহিদা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়। তাই দুধের দাম তুলতে দইয়ের দাম বাড়াতে হয়েছে।

শহরের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বগুড়া জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। যা বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি।

এদিকে ইফতারিতে বাহারি সামগ্রী নিয়ে শহরের মোড়ে বসেছে দোকান। এরমধ্যে শহরের জলেশ্বরীতলায় ইফতার সামগ্রী বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি দাম দিতে হয়। কারণ এসব এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ইফতার সামগ্রীর দাম প্রায় আকাশছোঁয়া।

টক দই কিনতে আসা মিলটন সোনার ও আতিক হাসান সুমন বলেন, ইফতারিতে সাদা দই অনেক উপকারী। বাসায় অন্য ইফতার তৈরি হয়। কিন্তু সাদা দই আমাদের তৃষ্ণা মেটাতে ও হজমে ভাল খুব উপকারী। আর পরিবারের সবার পছন্দের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত