দিন দিন সবার মধ্যেই স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে। শরীর ফিট রাখতে অনেকেই দারস্থ হন ফিটনেস সেন্টারের। ফলে ফিটনেস সেন্টার খুলে ভালো টাকাও আয় করার সুযোগ রয়েছে।
শরীরচর্চাকে ঘিরে করতে পারেন আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা। এজন্য অবশ্য আপনাকে প্রথমেই মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। তবে বড় পরিসরে শুরু করতে না চাইলে স্বল্প পুঁজি নিয়েও শুরু করতে পারেন।
ফিটনেস সেন্টার সাধারণত মানুষ স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য আসেন। মডেল ফিগার তৈরি করা, বডি বিল্ডআপ করা ও মেদ বা ওজন কমানোর জন্যও অনেকে আসেন। মূলত এ চার ধরনের সদস্যের কথা বিবেচনায় রেখে ফিটনেস সেন্টার খুলতে হবে। তবে শুরু, সময় ও স্থান নির্বাচনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। খোলামেলা ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাওয়া যাবে এমন স্থান বেছে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন যাতায়াতব্যবস্থা ভালো থাকে।
প্রচারণা
ফিটনেস সেন্টার ব্যবসায় আসার আগে ব্যবসার সম্ভাব্যতা যাচাই করে নিতে হবে। এলাকার তরুণদের সঙ্গে কথা বললে ধারণা পাবেন, যা আপনার পদক্ষেপকে করবে সফল। সুন্দর একটি নাম বেছে নিন সেন্টারের জন্য। এরপর সেন্টারটি অনেক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজিয়ে নিন। এলাকায় পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচার করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাতে পারেন। ফেসবুক পেইজ খুলেও প্রচার করতে পারেন। এর বাইরে দৈনিক পত্রিকাগুলোর ভেতর প্রচারপত্র ঢুকিয়ে বিলি করতে পারেন হকারের মাধ্যমে।
যা কিছু দরকার
একটি ফিটনেস সেন্টারের জন্য ট্রেডমিল, সাইক্লিং, পুশআপ বার, ডাম্বেলসহ অনেক কিছুরই প্রয়োজন। এগুলোর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আট থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগ শেষে কিছুদিন পরপর এগুলোর পরিচর্যা করলেই চলবে। খেয়াল রাখতে হবে শরীরচর্চার আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে।
ফিটনেস সেন্টারের অধিকাংশ পণ্য আমদানি করা হয় চীন ও তাইওয়ান থেকে। কিছু কিছু সরঞ্জাম এখন বাংলাদেশেও তৈরি হচ্ছে, তবে তা সংখ্যায় খুব কম। রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট ছাড়াও ঢাকার গুলশান ও বনানীর অভিজাত দোকানগুলোয় ব্যায়ামের এ সরঞ্জামগুলো পাওয়া যায়। এসব পণ্য কেনার সময় একজন দক্ষ ট্রেইনার সঙ্গে রাখুন। আর ফিটনেস সেন্টার পরিচালনার জন্য অন্তত দুজন প্রশিক্ষক রাখুন। একজন রুটিন করে দেবেন, অন্যজন দেখিয়ে দেবেন। আকর্ষণীয় সেবা প্রদানের জন্য রাখতে পারেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। ফিটনেস সেন্টারে ব্যবহুত অনেক যন্ত্র বিদ্যুৎচালিত, তাই লোডশেডিং থেকে রক্ষা পেতে ব্যাকআপ হিসেবে আইপিএস বা জেনারেটর রাখতে হবে।