ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে দারুণ ছন্দে আছেন জুলিয়ান আলভারেজ।
অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়ই আছেন, যারা রিয়াল মাদ্রিদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এরপর ম্যানচেস্টার সিটিও ছেড়ে গেছেন। ইউরোপীয় ফুটবলের সেরা দুটি ক্লাব হিসেবে গত এক দশক ধরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এই দুই দল। গত তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাই ভাগ করে নিয়েছে তারা, আর ২০২০ সালের পর থেকে কোনো ফাইনালই হয়নি যেখানে এই দুটি ক্লাবের অন্তত একটি খেলেনি।
কিন্তু জুলিয়ান আলভারেজ একসময় রিয়াল মাদ্রিদের ডাক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং গত গ্রীষ্মে নিয়মিত খেলার সুযোগ ও বড় ম্যাচের জন্য ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার ম্যানসিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তার প্রমাণ আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেই খেলতে যাওয়া।
২০২৩ সালে সিটি যখন ট্রেবল জয়ের পথে এগোচ্ছিল, তখন তারা সেমিফাইনালে রিয়ালকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল। কিন্তু আলভারেজ সেই ম্যাচে কেবল কয়েক মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছিলেন এবং ফাইনালে তো একেবারেই নামার সুযোগ পাননি। এ কারণেই তিনি স্পেনে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আজ তার চোখ লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডাবল জয়ে। তবে ইতিহাস অন্যরকম হলে হয়তো আজ তিনি আতলেতিকোর হয়ে নয়, বরং মাদ্রিদের অন্য প্রান্তে, রিয়ালের জার্সিতে খেলতে পারতেন।
২০১১ সালে, মাত্র ১১ বছর বয়সে, আর্জেন্টিনার ক্যালচিনের স্থানীয় এক ক্লাবে খেলার সময় আলভারেজকে রিয়াল মাদ্রিদ এক মাসের জন্য ট্রায়ালে ডেকেছিল। জিরোনায় এক টুর্নামেন্টে রিয়ালের বিখ্যাত সাদা জার্সি গায়ে খেলেছিলেন তিনি। সেখানে দারুণ পারফরম্যান্স করে কোচদের নজর কাড়েন এবং রিয়াল স্থায়ীভাবে তাকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। "আমি প্রায় ২০ দিন ছিলাম সেখানে," গত বছর MEN Sport-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন আলভারেজ। "তখন মাত্র ১১ বছর বয়স ছিল আমার। স্পেনে যেতে হলে পুরো পরিবারকে স্থানান্তরিত হতে হতো। তাই বিষয়টি অতীত হয়ে গেছে।"
সেসময় ফিফার নতুন নিয়ম কার্যকর হয়, যেখানে বলা হয়, ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়কে অন্য দেশ থেকে সাইন করানো যাবে না, যদি না তার পুরো পরিবার সেই দেশে চলে আসে। আর আলভারেজের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব ছিল না।
২০২৩ সালে আলভারেজের মা মারিয়ানা বলেছিলেন, "সে সবসময় তার প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে, অনেক ক্লাব তাকে চেয়েছিল। কিন্তু সে কোথাও একা যেতে চায়নি, আমরাও চাইনি। তখনো সে খুব ছোট ছিল।"
পরিবার এখনো সেই সময়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করে রেখেছে—আলভারেজের রিয়ালের জার্সি পরা ছবি, পত্রিকার কাটিং, যেখানে আর্জেন্টিনায় তার ট্রায়ালের খবর ছাপা হয়েছিল।
রিয়াল মাদ্রিদ নিতে পারেনি আলভারেজকে, পেয়ে যায় রিভার প্লেট। সেখানেই তার ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। রিভারের হয়ে ১২২ ম্যাচে ৮৫টি গোল বা অ্যাসিস্ট করেন তিনি, জেতেন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা, যার মধ্যে ছিল আর্জেন্টাইন চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা লিবের্তাদোরেস। এরপর ২০২২ সালে তিনি যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে।
"এটি দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল, তবে এখন এটি অতীত," আলভারেজ বলেন তার রিয়াল মাদ্রিদের ট্রায়ালের বিষয়ে। "এখন আমি একজন পেশাদার ফুটবলার।"
আজ রাতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হারানো এবং দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য আলভারেজের।