বগুড়া পুলিশ লাইন্স

সরকারকে খুশি করতেই জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় র‌্যাব-১২ বগুড়া ও জেলা পুলিশ সদস্যরা সরকারের মন জয় করতে বিরোধী দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতা ও সরকারের বিপক্ষে কথা বলা সুধীজনদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের নিয়ে আসা হত বগুড়া পুলিশ লাইন্সের একটি দোতলা ভবনে, যার বর্তমান নাম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার।

এর নিচতলায় গোপন বন্দিশালায় বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হত বলে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার গুলশানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বন্দিশালায় গোপনে রাখা হত। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। তাদের বয়ানে উঠে এসেছে আয়নাঘর ও বন্দিশালার ভয়াবহতার খবর। বগুড়া পুলিশ লাইন্সের ঠিক বিপরীতে রাস্তার পশ্চিম পাশে ভিটিটিআই-এর একটি ভবনে র‌্যাব-১২ বগুড়ার কার্যালয়। সেখানে ক্লাসরুম ও আবাসিক ভবন থাকায় গ্রেপ্তার বন্দিদের পুলিশ লাইন্সের বন্দিশালায় নিয়ে আসা হত।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিকেল ৫টায় বগুড়া পুলিশ লাইন্সে গিয়ে বন্দিশালার সত্যতা পাওয়া। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, এরকম খবর আমরা শুনেছি। পুলিশ লাইন্সের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে দোতলা ভবন অবস্থিত যেখানে বিভিন্নজনকে ধরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালানো হত। বর্তমান ভবনটি কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, আমরা এ বিষয়ে শুনেছি। তবে তা দেখিনি। আজ ডিআইজি ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি স্যার বগুড়ায় আছেন। তাই এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।