ডার্বি জয় রিয়ালের, আর্সেনালের ইতিহাস

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে পিএসভি আইন্দহোভেনকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ইতিহাস গড়েছে মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। ক্লাবটির চ্যাম্পিয়নস লিগে ইতিহাসে এটিই প্রতিপক্ষের মাঠে সবচেয়ে বড় জয়।

এর আগে ২০০৩ সালে ইন্টার মিলানের মাঠে ৫-১ ও ২০০২ সালে পিএসভির বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জিতেছিল আর্সেনাল। এবার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল তারা। এমন জয়ের দিনে নায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। দুটি গোল করার পাশাপাশি দারুণ সব পাস ও আক্রমণ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করেন আর্সেনালের এই অধিনায়ক। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স ছিল ১৭ বছর বয়সী ইথান নওনেরির। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে গোল করে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তার চমৎকার বাঁ পায়ের ভলি শুধু দলের লিডই বাড়ায়নি, দেখিয়ে দিয়েছে আর্সেনালের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল হতে পারে।

পুরো ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছে আর্সেনাল। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে আক্রমণ চালায় তারা। ১৮ মিনিটে জুরিয়েন টিম্বারের গোলের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, এই ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না পিএসভি। একের পর এক আক্রমণে কাঁপিয়ে দেয় তারা ডাচ চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগ। পিএসভি অবশ্য একটি গোল শোধ দেয়। থমাস পার্টের ফাউলের কারণে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেন নোয়া ল্যাং। কিন্তু সেটা ছিল কেবলই সান্ত্বনা। দ্বিতীয়ার্ধে ওডেগার্ড, লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড ও রিকার্ডো কালাফিওরির গোল নিশ্চিত করে আর্সেনালের রেকর্ড জয়। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল আর্সেনাল।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আরও একটি মাদ্রিদ ডার্বিতে মুখোমুখি হয় রিয়াল ও আতলেতিকো। আর ম্যাচটা জমিয়ে তোলেন ব্রাজিলের রদ্রিগো আর আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ। দেখে মনে হবে যেন দ্বৈরথ চলছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার। প্রথমার্ধে এই দুজনের পাল্টাপাল্টি গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন মরোক্কান উইঙ্গার ব্রাহিম দিয়াজ। আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে ম্যাচ জেতেন কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ৩০০তম ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ে রিয়াল।

মঙ্গলবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর প্রথম লেগের চতুর্থ মিনিটেই রিয়ালকে এগিয়ে দেন রদ্রিগো। মাঝমাঠ থেকে ফেদে ভালভের্দের বাড়ানো বল ধরে দ্রুতই আতলেতিকো বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি রদ্রিগোর ২৫তম গোল। কিন্তু এই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে দারুণ গোলে সমতা টানেন হুলিয়ান আলভারেজ। বল পায়ে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ দিক থেকে দূরের পোস্টে শট নেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি আলভারেজের সপ্তম এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২তম গোল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ওই ১-১ সমতায়। বিরতির পর দুই দলই গোলের জন্য উন্মুখ হয়ে ওঠে। শুরু হয় গতিময় ফুটবল। আতলেতিকো মাদ্রিদকে বেশি উজ্জীবিত মনে হলেও ৫৫ মিনিটে গোল পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ফারল্যান্দ মেন্দির বল ধরে আতলেতিকোর তিন ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে দূরের পোস্টে শট নিয়ে বল জালে পাঠান দিয়াজ। দৃষ্টিনন্দন এ গোলেই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

ক্লাব ব্রুজের মাঠে তাদের ১-৩ গোলে হারিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে তৃতীয় মিনিটেই লিয়ন বেইলির গোলে লিড নেয় ভিলা। ম্যাক্সিম ডি কুইপারের গোলে ১২ মিনিটে সমতা টানে বেলজিয়ান ক্লাবটি। তারপর সমানে সমানে লড়ছিলেন দুই পক্ষের ফুটবলাররা। তবে ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্র্যান্ডন মেশেলের আত্মঘাতী গোলে কপাল পুড়ে ব্রুজের। ৬ মিনিট বাদে জোলিসের ভুলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে মার্কো অ্যাসেনসিও ব্যবধান বাড়ান। তবে লিড নিয়েও ঘরের মাঠে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে।