প্রতিবছর রমজান এলেই দাম বেড়ে যায় ছোলার কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমদানি অব্যাহত থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে ছোলার দাম কমেছে কেজিতে ৪ থেকে ৫টাকা করে। ছোলার দাম কমায় খুশি বন্দরে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ছোলা আমদানির এমন ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ছোলা আমদানি অব্যাহত রয়েছে সেই সাথে দাম কমতির দিকে রয়েছে। দুদিন পুর্বেও বন্দরে প্রতি কেজি ছোলা পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ৯৪ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৯০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোপুর্বে যা ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা দামেও বিক্রি হয়েছিল।
হিলি স্থলবন্দরে ছোলা কিনতে আসা সোলায়মান আলী বলেন, রমজানকে ঘিরে দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় হিলি স্থলবন্দর থেকে ছোলা ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন মোকামগুলোতে সরবরাহ করে থাকি। রমজানকে ঘিরে বন্দর দিয়ে যেমন ছোলার আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে সেই সাথে দাম কিন্তু পূর্বের তুলনায় কমতে শুরু করেছে। রমজান শুরুর আগে বন্দর থেকে যে ছোলা ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা দরে ক্রয় করেছিলাম। রমজান শুরুর পর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ার কারণে সেই ছোলা দাম কমে ৯৪ থেকে ৯৫ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে আরেকদফা ছোলার দাম কমে এখন ৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দাম কমার কারণে আমাদের যেমন পুজি কম লাগছে যার কারণে কিনতে সুবিধা হচ্ছে। তেমনি মোকামে চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি পাঠাতে সুবিধা হচ্ছে এর পাশাপাশি দেশের মানুষ কম দামে খেতে পারছে।
হিলি স্থলবন্দরের ছোলা আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রমজানকে ঘিরে দেশের বাজারে ভালো চাহিদা ও দাম থাকায় ছোলা আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। সেই সাথে ব্যাংকগুলো চাহিদা মাফিক এলসি দেওয়ায় ও ডলার মূল্য স্থিতিশীল থাকায় বন্দরের ছোটবড় সবধরনের আমদানিকারকরা এলসি যেমন খুলতে পারছেন, তেমনি তাদের এলসিকৃত ছোলাগুলো বন্দরে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করছে। এতে করে পুর্বে যেখানে বন্দর দিয়ে ২/৩ ট্রাক করে ছোলা আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক করে ছোলা আমদানি হচ্ছে। এতে করে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ার কারনেই দাম কমছে।
ভারতের বাজারে নতুন ছোলা উঠতে শুরু করায় সেখানে ছোলার দাম কিছুটা কমেছে যার কারণে কম দামে কিনতে পারায় দেশের বাজারেও এর দাম কমছে। সেই সাথে অস্ট্রেলিয়া থেকে এবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছোলা আমদানি হওয়ায় সেই সাথে এর দাম কমের কারণে ভারতীয় ছোলার দামের উপর প্রভাব পড়েছে। আমদানির এমন ধারা অব্যাহত থাকলেও সামনের দিনে দাম আরো কমতে পারে।
হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন,রমজানকে ঘিরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ছোলার আমদানি অনেকটাই বেড়েছে। আমদানিকৃত এসব পণ্য দ্রুত যেন বন্দর থেকে খালাস করে নিতে পারেন সেই লক্ষ্যে আমদানিকৃত পণ্যে বন্দরে প্রবেশ করা মাত্র সেই পণ্যের পরিক্ষন শুল্কায়ন সম্পুর্ন করে দেওয়া হচ্ছে। কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারক বা সিআ্যন্ডএফ এজেন্টগন দ্রুত সেসব পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। সর্বপরি দ্রুত যেন এসব পণ্য ছাড়করণ নিয়ে দেশের বাজারে সরবরাহ করতে পারেন সে লক্ষ্যে কাস্টমস কতৃপক্ষ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করে রেখেছে।