কমতে শুরু করেছে মূল্যস্ফীতি

অর্থনীতিতে দুটি বিষয়কে পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর একটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি, অন্যটি বেকারত্ব। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কষাঘাতে জর্জরিত। কোনো উদ্যোগেই মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যাচ্ছিল না। অবশেষে এটি কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, ডিসেম্বরেও যা ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যে পণ্যটি কিনতে ১০০ টাকা লাগতো, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটির দাম হয়েছে ১০৯ টাকা ৩২ পয়সা।

খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এটি জানুয়ারিতে নেমে আসে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে। আর ফেব্রুয়ারিতে নেমে এসেছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। খাদ্য বহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সবমিলিয়ে ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। নভেম্বরে এই মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ গত কয়েক মাস ধরেই মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাওয়ার প্রবণতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভোক্তা মূল্যসূচক বা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। এটির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষকে সঞ্চয় ভেঙে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে মানুষ বেশি সংকটে পড়ে। এখন যদি ধীরে ধীরে এটি কমে আসে তাহলে জনজীবনে স্বস্তি মিলবে। খাদ্য পণ্যে যে মূল্যস্ফীতি কমেছে, তার প্রতিফলন বাজারেও দেখা গেছে। সাধারণত অন্যান্য বছর রোজার কিছুদিন আগে ও রোজা শুরুর পর পর বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

এবার তেমন ঘটনা তেমন চোখে পড়েনি। ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কমেছে। এছাড়া বেগুন, আলু, পেঁয়াজ, শসাসহ বিভিন্ন কাঁচা পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম। মূল্যস্ফীতি হ্রাসের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে গত সোমবার এনইসি সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে শহরে ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এছাড়া শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রমিকের মজুরি হারে বৃদ্ধি ঘটেছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে কৃষি ক্ষেত্রে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে, আগের মাসে এ বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। জানুয়ারিতেও এ হারে মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে। সেবা খাতে জানুয়ারি মাসে মজুরি হার সামান্য হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগের মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।