বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তার নেতৃত্ব ও দলীয় পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জাতীয় ইংরেজি গণমাধ্যম ডেইলি সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ব্যর্থতা, দলীয় পরিবেশ, সিনিয়রদের ভূমিকা এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার পেছনের কারণও তুলে ধরেন।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের পারফরম্যানস প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও, দলের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো ছিল বলে মনে করেন শান্ত। তিনি বলেন, 'সবার মধ্যে অবদান রাখার প্রবল ইচ্ছা ছিল—হোক সেটা ড্রেসিংরুমে, লাঞ্চ বা ডিনারের সময়, কিংবা অনুশীলনে। ইতিবাচক আলোচনা চলছিল এবং দলের ভেতরে বিশ্বাস বাড়ছিল।'
তবে দল ব্যর্থ হওয়ার পর তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যেসব সমালোচনা হয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলেই মনে করেন তিনি। 'শুধু ক্রিকেটাররাই সেখানে ছিল না—অনেক অন্যরাও ছিলেন। আমাদের খাদ্যাভ্যাস উন্নত করা দরকার, তবে এটাকে এত বড় ইস্যু বানানোর প্রয়োজন ছিল না,' বলেন শান্ত।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে বাংলাদেশ শিরোপার দাবিদার বলে মন্তব্য করেছিলেন শান্ত, যা পরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে তিনি এখনো নিজের বক্তব্যে অটল, 'ক্রিকেটে কিছুই নিশ্চিত নয়—১০০ ওভারের খেলায় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। আমরা কেবল অংশগ্রহণ করার জন্য সেখানে যাইনি।'
একসময় ওয়ানডেতে ভালো করা বাংলাদেশ এখন কেন পিছিয়ে পড়ছে, সে বিষয়ে নিজের মতামত জানান শান্ত, 'একটা সময় আমরা ভালো করতাম কারণ দলে ৪-৫ জন সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলেন যারা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতেন। এখনো অনেকে ৮-১০ বছর ধরে খেলছে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে দলগতভাবে লাভবান হওয়া হচ্ছে না।'
এছাড়া, রান তোলার মানসিকতাও পরিবর্তন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। 'আগে ২৮০ রান ভালো স্কোর ধরা হতো, এখন নিয়মিত ৩৫০ রান তোলা হয়। আমরা এখনো ২৫০-২৭০ রান গড় স্কোর ধরে রাখছি, যা বদলাতে হবে,' বলেন তিনি।
এক সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছিলেন, তিনি সাকিব আল হাসানকে মিস করছেন না। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'আমি যখন বলি ‘মিস করিনি’, এর মানে এই নয় যে তারা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাকিব ভাইয়ের মতো খেলোয়াড় বাংলাদেশ ক্রিকেটে আর হবে কি না, জানি না। কিন্তু আমরা যদি সবসময় সিনিয়রদের ওপর নির্ভর করি, তাহলে আমাদের নিজেদের দায়িত্ব নেওয়া হবে না। সিনিয়ররা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে একটা স্তরে নিয়ে গেছেন, এখন আমাদের দায়িত্ব তা আরও সামনে নিয়ে যাওয়া।'
নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়ে শান্ত জানান, টি-টোয়েন্টিতে তার স্ট্রাইক রেট সমস্যা ছিল, আর তিন ফরম্যাটে অধিনায়কত্ব করা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠছিল। 'আমি অনুভব করছিলাম, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুরোপুরি স্বাধীনতা পাচ্ছি না। আবার কেউ কেউ বলছিল আমি একাই সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি—এতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছিল। যখন নেতৃত্ব উপভোগ করা বন্ধ হয়ে গেল, তখনই মনে হলো সরে দাঁড়ানো উচিত,' বলেন তিনি।
অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ তাকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে শান্ত বলেন, 'তিনি আমার দুশ্চিন্তা শুনেছেন এবং ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। ৮০-৯০% পর্যন্ত তিনি কথা রেখেছেন, আশা করি, বাকিটাও সময়ের সাথে পাবো।'
অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখনো বোর্ড তার সঙ্গে আলোচনা করেনি। তবে যিনিই অধিনায়ক হোন, তাকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। 'বিশ্ব ক্রিকেটে ক্যাপ্টেনের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকে, কারণ সে সরাসরি মাঠে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। বোর্ড যাকেই নেতৃত্ব দেবে, তাকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে হবে,' বলেন শান্ত।