চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের ‘বাড়তি সুবিধা’ পাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। হাইব্রিড মডেলের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলছে দুবাইয়ে। তাই তাদেরকে অন্য ভেন্যুতে যাতায়াতে বাড়তি কোনো বিমান ভ্রমণ করতে হচ্ছে না। বরং একটি ভেন্যুর কথা মাথায় রেখেই দল সাজাতে পারছে। তবে ভারতীয় দল পাকিস্তানে না যাওয়াতেও ভুল কিছু দেখছেন না সৌরভ গাঙ্গুলী।
ভারতের সাবেক খ্যাতিমান অধিনায়ক এবং সাবেক বিসিসিআই প্রধান সৌরভ বলেছেন, ‘কীসের পছন্দ? ভারত তো নিজেদের ইচ্ছায় সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলতে রাজি হয়নি! তারা পাকিস্তানে যেতে পারছে না, ভারতের সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। এজন্য খেলতে হচ্ছে (দুবাইয়ে)। এটা তো ভারতীয় দলের হাতে নেই। ব্যাপারটা এমনই।’
ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের প্রথম শিরোপাজয়ী অধিনায়ক সৌরভ বলেন, ‘ভারত দেশের মাঠের বিশ্বকাপে ৯টি ভিন্ন শহরে খেলেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ৮টি (আসলে ৫টি) ভিন্ন শহরে খেলে। ভারত দুবাইয়ে খেলার কোনো ব্যাপার এখানে নেই।’
সৌরভ আরও বলেন, ‘আমার মনে আছে, ২০০৩ বিশ্বকাপে আমি অধিনায়ক ছিলাম; তখন জিম্বাবুয়েতে সফরে যায়নি ইংল্যান্ড। তারা জিম্বাবুয়েকে পয়েন্ট দিয়ে দিয়েছে, কারণ সেখানে গিয়ে খেলবে না। কাজেই সব দেশেরই নিজস্ব ধরন আছে সবকিছুর এবং আমার মনে হয়, পাকিস্তান সফরে না যাওয়ায় ভারতীয় দল ও সরকারের কোনো ভুল এখানে নেই।’
পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের পেছনে নিজের ভূমিকারও কথাও তুলে ধরলেন ৫২ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার, ‘২০২০ সালে আমি যখন বিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলাম, তখন আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক করেছিলাম পাকিস্তানকে। ২০৩১ পর্যন্ত সব বৈশ্বিক আসরের ভেন্যু ঠিক করার গ্রুপের অংশ ছিলাম আমি। ভারতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৯ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে। এটা তো ভারত নিজে করেনি। তাদের পাকিস্তানে যাওয়ার উপায় নেই।’
পাকিস্তানে না যাওয়ায় ভারতের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন সৌরভ, ‘আমি বলতে পারি, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ারের মতো ব্যাটসম্যানদের বরং খারাপ লাগছে লাহোর ও করাচির উইকেটে খেলতে না পেরে। অন্য দলগুলো সেখানে ৩৫০ রানও করেছে। ইংল্যান্ড সাড়ে তিনশ করেছে, অস্ট্রেলিয়া সেটা তাড়া করে জিতেছে। নিউজিল্যান্ড ৩৬০ করেছে। সেখানে দুবাইয়ে হচ্ছে ২৪০-২৫০ রান। কোহলি-শুবমানরা গেলে আরও কয়েকটি সেঞ্চুরি হয়ে যেত। তাই পাকিস্তানের যেতে না পেরে বরং ভারতই সুযোগ হারাচ্ছে।’