দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ১২৩ জনকে চোখের চিকিৎসা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য থেকে আসা দুই চক্ষু বিশেষজ্ঞ। তারা হলেন লন্ডনের মুরফিল্ড আই হাসপাতালের ডা. মাহি মুকিত ও ডা. নিয়াজ ইসলাম। গত ৮-১১ মার্চ চারদিন রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা করেন তারা। এ সময় তারা ২৩ জন রোগীর চোখের সার্জারি করেন, রোগীদের চোখের ফলোআপ ও চিকিৎসার নথিপত্র যাচাই করেন।
পরে এই দুই চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামত দেন। তারা জানান, বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসকরা যে সেবা দিয়েছেন তা সঠিক এবং বিশ্বমানের। এ ধরনের রোগীদের যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও একইভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আন্দোলনের সময় চোখের ভিতরের গুলি যে পদ্ধতিতে অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সঠিক।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আরও বলেন, কিছু গুলি চোখের বাহিরে, মাথা, মুখমণ্ডল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে তারা মতামত দিয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে তারা এই চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলেও জানান।
মঙ্গলবার দুপুরে এই দুই চিকিৎসক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। তারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে তাদের কাজের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন।
এ সময় ডা. মাহি মুকিত জানান, আন্দোলনে আহতদের যথাযথ মানসিক ট্রমার চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া অনেক রোগী পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে আছেন। এভাবে ইনস্টিটিউশনালাইজড হয়ে থাকা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যাদের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাতে পারেন।
সাক্ষাতকালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল বার্নিংহামের ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।