জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু শনিবার থেকে

জাতীয় দল কিংবা বিপিএল-ডিপিএল মতো জমকালো আসরের বাইরেও এমন একটি প্রতিযোগিতা রয়েছে, যা দেশের প্রতিটি কোণে ক্রিকেটের শেকড়কে আরও দৃঢ় করে। সেটিই জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ (এনসিসি)। দেশের ৬৪টি জেলা দলের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট মূলত জেলা ক্রিকেটের বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের স্বপ্ন যারা দেখেন, তাদের জন্য এটি নিজেকে প্রমাণের এক বিশাল মঞ্চ।

সেই টুর্নামেন্টটি শুরু হচ্ছে আগামীকাল শনিবার থেকে। এবারের আসর দুইটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বটি ৫০ ওভারের ম্যাচের ফরম্যাটে হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে সাদা বল। দেশের ১৬টি ভেন্যুতে মোট ৯৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৬৪টি জেলা দল দুই স্তরে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রথম স্তরের সেরা ৮ দল দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হবে, আর শেষের ৮ দল পরবর্তী আসরে দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাবে। অপরদিকে দ্বিতীয় স্তরের শীর্ষ ৮ দল পরবর্তী আসরে প্রথম স্তরে উন্নীত হবে।

দ্বিতীয় পর্ব হলো চূড়ান্ত লড়াই। এই পর্বে ম্যাচগুলো হবে ৯০ ওভারের লাল বলের ক্রিকেটে। দুই ভেন্যুতে ১২টি ম্যাচের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত ফাইনাল নির্ধারিত হবে। গ্রুপ পর্ব শেষে সেরা দুই দল খেলবে তিন দিনের ফাইনাল, যেখানে প্রথম ইনিংসে ৯০ ওভার এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ ওভার খেলার সুযোগ থাকবে।

জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রথম স্তরের ম্যাচগুলো বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের ম্যাচসমূহ জামালপুর: কুষ্টিয়া বনাম মাগুরা, টাঙ্গাইল: ময়মনসিংহ বনাম সিলেট, চুয়াডাঙ্গা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বনাম নোয়াখালী, গোলাপগঞ্জ: বরগুনা বনাম যশোর। দ্বিতীয় দিনের ম্যাচে মুখোমুখি হবে নারায়ণগঞ্জ-নীলফামারী, গোপালগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ, ঢাকা-নরসিংদী এবং দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও।

এরপর একে একে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোও মাঠে গড়াবে, যেখানে প্রতিটি দলের লক্ষ্য থাকবে শীর্ষ স্তরে জায়গা ধরে রাখা এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা। দুই স্তরের উত্তরণ ও অবনমন পদ্ধতি থাকায় এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। প্রতিটি দল শিরোপার স্বপ্নে মাঠে নামলেও শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকতে কঠিন লড়াই করতে হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটারদের জন্য এটি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের দারুণ মঞ্চ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ তারকা ক্রিকেটার খুঁজে বের করতে চায়। এক সময় এই টুর্নামেন্ট থেকেই উঠে এসেছেন জাতীয় দলের অনেক নামকরা ক্রিকেটার। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে এই আসর শুধু একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং এটি প্রতিটি জেলার ক্রিকেট সংস্কৃতির প্রতিফলন। যাদের জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন, তাদের জন্য এই প্রতিযোগিতা হতে পারে ভবিষ্যতের সিঁড়ি। প্রতিটি জেলা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে লড়াই থাকবে, উত্তেজনা থাকবে, থাকবে নতুন তারকা খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। মাঠে নামলেই বোঝা যাবে—এটি শুধু একটি খেলা নয়, এটি প্রতিটি জেলার গর্বের লড়াই!

৬৪ জেলার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হবে চ্যাম্পিয়ন, কোন কোন দল নজর কাড়বে, আর কোন ক্রিকেটাররা জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়ানোর জন্য প্রস্তুত হবেন—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আসরের শেষ পর্যন্ত। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা আরও একটি রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতার স্বাদ পেতে চলেছেন!

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে উঠে এসেছেন অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার, যারা পরবর্তীতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। এবারও নতুন কোনো তারকার জন্ম হয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা!