দেরিতে পারফর্ম করেছি তাই জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি

অভিনন্দন আপনাকে। ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে।

ইমতিয়াজ হোসাইন চৌধুরী তান্না : ২৫ বছর হয়ে গেছে নাকি! সময় কীভাবে কেটে যায় বোঝাই যায় না। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে প্রথমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছিলাম। অদ্ভুত একটা অনুভূতি ছিল। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কোনো দলের হয়ে খেলতে পারা ঐ সময় ছিল গর্বের একটা বিষয়। সবই মনে আছে। তবে সালটা আমি ভুলে গিয়েছিলাম। 

ডিপিএলের সবচেয়ে অভিজ্ঞদের একজন আপনি। এবারও সবশেষ ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে ৪৩ করেছেন। ফিফটিও করেছেন। এখনো খেলার অনুপ্রেরণাটা আসে কোথা থেকে?

তান্না : আসলে ক্রিকেট তো আমার কাছে ভালোবাসার আরেক নাম। এটা ছাড়া আর কিছু করিনি জীবনে। কোনো ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে জড়াইনি। খেলাটা আমি উপভোগ করি। আর তাই এখনো খেলে যেতে পারছি। যেকোনো ক্ষেত্রেই উপভোগ করলে সেই কাজে আগ্রহ আসে। আমার বেলায় ক্রিকেট সেই জায়গা দখল করেছে। আর যেহেতু আমি এখনো ফিট আছি, তাই খেলাটা চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হয় না।

ফিটনেসের প্রসঙ্গ উঠতেই বর্তমান সময়ের অনেক ক্রিকেটারের কথা উঠে আসে। যারা সেটা মেনে চলতে পারেন না। ৪০ বছর বয়সেও আপনি কীভাবে এখনো সেটা ধরে রাখতে পেরেছেন?

তান্না : কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে যখন শুরু করেছিলাম তখন যেমন ছিলাম। এখনো ঠিক তেমনি আছি। আসলে প্রতিদিন তো মাঠে অনুশীলন হয়। সেখানে নেটে ব্যাটিং করা ছাড়াও ঘাম ঝরে এমন শারীরিক কসরত করা হয়। পাশাপাশি জিমে নিয়মিত যাই। আর এখন ইন্ডোর স্টেডিয়াম হওয়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। সিলেট শহরের একটি ইন্ডোর আমরা প্রতি সপ্তাহে দুদিন ভাড়া নিয়ে থাকি। সেখানে ২ ঘণ্টা ফুটবল খেলা হয়। ফিটনেস ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটা অনেক সাহায্য করে আমাকে।  

অনেক তারকা ক্রিকেটারকে দেখা যায় ফিট থাকার জন্য তারা খাবার নিয়ন্ত্রণ করেন। উদাহরণ হিসেবে বিরাট কোহলির নাম আসবে সবার আগে। আপনারও কি খাবারের ক্ষেত্রে কোনো বাছ-বিচার আছে?

তান্না : পরিবার বা বন্ধুমহলে সবাই বলে আমি নাকি কম খাই। আমারও তাই মনে হয়। তবে আমি সবকিছুই খেতে পছন্দ করি। খাবারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাছ-বিচার আমি করি না। হোক না সেটা ভাত-মাংস, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। সবকিছুই খাই, কিন্তু সেটা হয় পরিমিত পরিমাণে।

এত কিছু মেনে চলেছেন ঠিকই। তবুও আপনার শহরের মানুষ, কাছের মানুষেরা জাতীয় দলের জার্সিতে আপনাকে দেখতে পাননি। আক্ষেপ হয় কি?

তান্না : আক্ষেপ তো অবশ্যই হয়। কারণ যেকোনো ক্রিকেটারেরই একমাত্র লক্ষ্য থাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা। আমারও সেটাই ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে জাতীয় দলে খেলতে পারিনি। ২৫ বছর আগে যখন প্রথমবার ঢাকার লিগে খেলতে নেমেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল জাতীয় দল অতি কাছে। তবে সেই ঢাকার লিগে আজ যখন খেলছি, তখনো লাল-সবুজের জার্সিটা আমার কাছে দূর আকাশের তারা। যা আমি কখনো ছুঁতে পারিনি। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন সবাই আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন একদিন জাতীয় দলে খেলব। তবে সেটা আমি পূরণ করতে পারিনি। এটা তো অবশ্যই আফসোসের। আক্ষেপটা সবসময়ই থেকে যাবে।

একটা সময় তো আপনি ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। ডিপিএল, এনসিএল, বিসিএল তিনটি টুর্নামেন্টেই সমানতালে পারফর্ম করেছেন। এইচপি দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন। জাতীয় দলের খুব কাছে কবে যেতে পেরেছিলেন বলে আপনি মনে করেন?

তান্না : মনে হয় আমি সঠিক সময়ে পারফর্ম করতে পারিনি। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ২০০৮-২০০৯ সালে মোহামেডানের হয়েও খেলেছিলাম যখন, তখন ছিলাম আমি ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমি নির্বাচকদের থেকে কোনো ডাক পাইনি। আর আমাদের দেশে তো বয়স ৩০ হয়ে গেলে সবাই বাতিলের খাতায় ফেলে দেন। সেটাও আমার জন্য কাল হয়ে গিয়েছিল। আরও দুই-এক মৌসুম আগে যদি পারফর্ম করতে পারতাম তাহলে হয়তো জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসত।

ক্রিকেট তো খেলছেন এখনো। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী তাহলে?

তান্না : ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো কিছু ভাবিনি। কারণ ক্রিকেট তো উপভোগ করছি। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছি। যদি ফিটনেস পক্ষে কথা বলে, ক্লাবের আগ্রহ থাকে তাহলে ডিপিএলটা আরও কিছুদিন খেলতে চাই। এপ্রিলের শেষে যাব ইংল্যান্ডের মাইনর কাউন্টি খেলতে। সেখানে এসেক্সের একটি দলের হয়ে খেলব।

ঐ সময় চেষ্টা করব ‘লেভেল টু’ কোচিং কোর্সটাও করার। ভবিষ্যৎ এখনো ঠিক করে না উঠলেও ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকার ইচ্ছে আছে। কারণ এটা ছাড়া আর কিছু তো করিনি কখনো, আর করতেও পারব না।