প্রথমবারের মতো এশিয়া কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে পদক নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। ইরানে অনুষ্ঠিত আসরে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে স্মৃতি, শ্রাবণীরা। এই সাফল্যই আগামীতে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে তাদের। মেয়েদের এ সাফল্য স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের কর্তাদেরও। আগামী বছর এশিয়ান গেমসকে পাখির চোখ করে তারা চাইছে মেয়েদের দলটিকে প্রস্তুত করে তুলতে। তার আগে অবশ্য এ বছর জুনে ভারতের বিহারে হতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপে পদকের স্বপ্ন দেখছে তারা।
এশিয়ান গেমসের কাবাডিতে সর্বশেষ পদকের স্বাদ দিয়েছিল মেয়েরাই। ২০১০ সালে এশিয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয় মেয়েদের কাবাডি। গুয়াংজুতে সেই আসরে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এর চার বছর পর কোরিয়ার ইনচনেও ব্রোঞ্জ পদক জেতে নারী দল। এরপর দুটি এশিয়াডে পদকহীন থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে হ্যাংঝুতে নেপালের কাছে হেরে পঞ্চম হতে হয়েছিল তাদের। সেই পদক পুনরুদ্ধারে এবার আগেভাগেই পরিকল্পনা করেছে ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগের বিশ্বাস সঠিক পরিকল্পনায় এই মেয়েদের দিয়ে এশিয়াডের পদক পুনরুদ্ধার সম্ভব, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য এশিয়াডের পদক পুনরুদ্ধার। মেয়েদের ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস একটু সঠিক পরিকল্পনা করে এগোতে পারলে সম্ভব। আসলে কাবাডিতে পদকের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।’ মেয়েদের নিয়ে পরিকল্পনার একটু সবিস্তারে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন সোহাগ, ‘দেখুন জুনে বিহারে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আছে। তার আগে আমরা অন্তত ১০ থেকে ১২টি ম্যাচের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। এই মেয়েদের যত বেশি ম্যাচ খেলানো যাবে, ততই তাদের জন্য বিশ্বকাপে পদক পাওয়ার কাজটা সহজ হবে। আমাদের পরিকল্পনা হলো ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফেরার পরপরই ক্যাম্প শুরু করা। এরপর তাদের নেপালে পাঠাব পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে। এর পরপরই থাইল্যান্ডে নেপাল ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজক থাইল্যান্ডকে বলেছি, যাতে ডাবল লিগ পদ্ধতিতে আসর আয়োজন করে, তাতে ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়বে। আর বিশ্বকাপের আগে ভারতে একটু আগেভাগে পাঠিয়ে দেব দলকে, যাতে সেখানকার বিভিন্ন রাজ্য দলের সঙ্গে আরও কিছু ম্যাচ খেলতে পারে। এই ম্যাচগুলো যদি মেয়েরা খেলতে পারে তাহলে বিশ্বকাপের ভালো প্রস্তুতি হবে।’ বিশ্বকাপের পরও মেয়েদের ক্যাম্পটা চলমান রাখতে চান সোহাগ, ‘এই ক্যাম্পটা আমরা এশিয়াড পর্যন্ত চলমান রাখব। এর মধ্যে জানুয়ারিতে এসএ গেমস আছে পাকিস্তানে। সেখানে যদি ভারত না খেলে তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে স্বর্ণপদক জয়। ছেলেদের ক্ষেত্রেও আমাদের একই লক্ষ্য। ভারত না থাকলে আমাদের পক্ষে মেয়েদের বিভাগে নেপালকে হারানো খুব সম্ভব। এসএ গেমসের পর পুরোদমে প্রস্তুতি চলবে এশিয়াডের। এর মাঝে মাঝে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ খেলব।’
সোহাগের মতো মেয়েদের এ দলটি নিয়ে আশাবাদী দলের সহকারী কোচ ও সাবেক অধিনায়ক আরদুজ্জামান মুন্সি। গত বছর আন্তর্জাতিক কাবাডি থেকে অবসরের পর নারী দলের কোচিং প্যানেলে যোগ দেওয়া আরদুজ্জামান বলেন, ‘এই দলটির মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে। কিছু কিছু পজিশনে ভালো বিকল্প হয়তো আমরা এখনো খুঁজে পাইনি। তবে যারা আছেন, তাদের ভালো প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে পারলে বিশ্বকাপ, এসএ গেমস ও এশিয়াডে তাদের পক্ষে পদক জেতা সম্ভব। বিশ্বকাপে আমার বিশ্বাস ব্রোঞ্জ পদক জিতবে। আর এসএ গেমসে অবশ্যই ভারত না থাকলে আমাদের স্বর্ণপদককে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী বছর এশিয়াডে বাস্তবিক লক্ষ্য থাকবে ব্রোঞ্জের। কারণ ভারতের মতো ইরানও এখন অনেক এগিয়ে গেছে। তাদের পেছনে ফেলা হয়তো এখনই সম্ভব নয়। তবে তারুণ্যের উৎসব থেকে ফেডারেশন ছেলেমেয়ে মিলিয়ে ১০০ জন তরুণ কাবাডি খেলোয়াড় বাছাই করেছে। তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। যদি সেটা হয়, তবে তারা একটা সময় ভারত, ইরানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।’
এশিয়াডে ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও স্থানীয়ভাবে আগ্রহ কমে যাওয়ায় একটা বড় সময় মেয়েদের কাবাডি স্থবির হয়ে পড়েছিল। ফেডারেশনের নতুন কমিটি অচলাবস্থা কাটাতে নানা পরিকল্পনাই হাতে নিচ্ছে। তবে তারাও আছে অনিশ্চয়তায়। এটা যে নির্বাচিত কমিটি নয়। তাই তারা জানেন না কতদিন তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।