সামনে বড় পরীক্ষা বাংলাদেশের। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ২৫ মার্চ শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে সেই পরীক্ষায় বসার আগে এক সপ্তাহ সৌদি আরবের তায়েফে গিয়ে নিজের শিষ্যদের প্রস্তুত করেছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। গতকাল সকালে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় ফেরে বাংলাদেশ জাতীয় দল। তার একদিন আগে দেশে আসেন হামজা চৌধুরী। গতকাল রাতে তিনিও এসে পৌঁছেছেন সিলেট থেকে ঢাকায়। দলের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে আজ দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন করবেন হামজারা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে এটিই হবে হামজা চৌধুরীর প্রথম অনুশীলন পর্ব। কাল বৃহস্পতিবার দল নিয়ে ভারতের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা রয়েছে কোচ কাবরেরার।
তার আগে অবশ্য গতকাল সৌদি আরব থেকে ঢাকায় ফিরেই প্রশ্নের মুখোমুখি হন হাভিয়ের কাবরেরা। কথা বলেন হামজা চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চর্চিত হয়েছে ইতালির চতুর্থ স্তরের লিগ ‘সিরি ডি’র ক্লাব ওলবিয়া কালসিওতে খেলা ফাহামিদুল ইসলামকে নিয়ে। কাবরেরার প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় সৌদি আরবের ক্যাম্প থেকে ইতালিতে ফেরত গিয়েছেন ফাহামিদুল। তাকে নিয়ে কাবরেরা বলেন, ‘ফাহমিদুল ঢাকায় আসেনি আমাদের সঙ্গে, সে আমাদের সঙ্গে এক সপ্তাহ ছিল। খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হওয়াটা তার জন্যও ভালো ব্যাপার। আসলে এ মুহূর্তে তার চেয়ে অন্যরা বেশি প্রস্তুত। সে খুবই তরুণ। তার আরও সময় প্রয়োজন দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। এ কারণেই সে দলের সঙ্গে ঢাকা ফেরেনি। তবে সে খুব ভালো কাজ করেছে।’ ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে দিয়ে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড লাইনের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকা ফুটবল ভক্তরাও সমালোচনা করেছেন ফাহমিদুলের বাদ পড়ার সিদ্ধান্তের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবেক ফুটবলাররাও নেতিবাচক ভঙ্গিতে দেখছেন এ সিদ্ধান্তকে।
কোচ কাবরেরা উচ্ছ্বসিত হামজা চৌধুরীর দলে যোগ হওয়ার ব্যাপারে। বলেন, ‘(হামজার অন্তর্ভুক্তি) ভীষণ ইতিবাচক। সবাই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ট্রেনিং করার জন্য খুবই রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। আমিও তার সঙ্গে দেখা করার জন্য, এক সঙ্গে কাজ করার জন্য এবং কীভাবে ভারতকে সামনের সপ্তাহে হারাতে পারি, তা নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে উন্মুখ হয়ে আছি।’
‘নিশ্চিতভাবেই তার অভিজ্ঞতার প্রভাব আমাদের দলে পড়বে। তার নেতৃত্ব, তার পেশাদারিত্ব এবং আমি মনে করি জাতীয় দলের হয়ে সেও খেলতে মুখিয়ে আছে। দলের অন খেলোয়াড়রাও একইভাবে তার সঙ্গে খেলতে উন্মুখ। এতে করে আমার মনে হচ্ছে, অবশ্যই ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে।’ যোগ করেন কাবরেরা। সৌদি আরবের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্টির কথা জানান কাবরেরা, ‘প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, পরিপূর্ণ একটা ক্যাম্প হয়েছে। সৌদি আরবে ১২ দিন উঁচুমানের সুবিধাদি নিয়ে অনুশীলন করা, আমরা খুবই ভাগ্যবান। সব মিলিয়ে এটা আমাদের জন্য যথাযথ পরিবেশ ছিল। সম্ভবত আমরা একটা বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাটা মিস করেছি, কিন্তু সত্যি বলতে প্রস্তুতি নিয়ে অনেক খুশি। আসলেই খুবই রোমাঞ্চিত এবং শিহরিত ভারতের বিপক্ষে বড় ম্যাচের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য।’ ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে সবশেষ খেলা ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। হামজার কাঁধে সওয়ার হয়ে এবার সেই ক্ষত পুষিয়ে নিতে মরিয়া কাবরেরা ও তার শিষ্যরা।