আর্জেন্টাইন তারকা আনহেল ডি মারিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন গুঞ্জন উঠেছে। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন, তবে এখনো তিনি নতুন কোনো চুক্তিতে সই করেননি। এই সুযোগে মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকা তাকে দলে টানতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আ' বোলা।
তিনবারের লিগা এমএক্স চ্যাম্পিয়ন আমেরিকা, আগামী মৌসুমের জন্য বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তির পরিকল্পনা করছে। মেক্সিকান ফুটবলের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মধ্যে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ, লিগ ইতিমধ্যে বড় তারকাদের আকর্ষণ করছে—সার্জিও রামোস ও হামেস রদ্রিগেজের মতো ফুটবলাররা এখানে যোগ দিয়েছেন, যা প্রতিযোগিতার মাত্রা ও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
খবর অনুযায়ী, আমেরিকার ডি মারিয়াকে নেওয়ার প্রকল্পে জার্মান ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস অর্থায়ন করতে পারে। সংস্থাটি তাঁর বেতনের একটি অংশ বহন করলে এই চুক্তি সহজ হয়ে যাবে। বিশ্ব ফুটবলে এমন চুক্তির নজির থাকলেও মেক্সিকান লিগের জন্য এটি এক বিরল ঘটনা।
২০২৫ মৌসুমে দলবদলে খুব বেশি সক্রিয় ছিল না আমেরিকা। গুরুত্বপূর্ণ কোনো খেলোয়াড় তারা হারায়নি, আবার বড় কোনো তারকাকেও দলে টানেনি। বর্তমান স্কোয়াডের ধারাবাহিকতাই তাদের মূল কৌশল ছিল, যার মাধ্যমে তারা তিনটি টানা শিরোপা জিতেছে। তবে রামোস ও হামেসের আগমনে লিগের অন্যান্য ক্লাবগুলো নিজেদের শক্তিশালী করছে, ফলে আন্তর্জাতিক তারকা সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় আমেরিকাও পিছিয়ে পড়তে চায় না।
ডি মারিয়া দলে যোগ দিলে শুধু মাঠেই নয়, মিডিয়া ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও ক্লাবের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বেনফিকার মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই উইঙ্গার আমেরিকাকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন।
ডি মারিয়ার পাশাপাশি, আমেরিকা নিজেদের একাডেমির দুই খেলোয়াড়কে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। প্রথমজন এমিলিও লারা, যিনি এই মৌসুমে নেকাক্সার হয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন। তার ধারের মেয়াদ গ্রীষ্মে শেষ হবে, আর কোনো বাই-আউট ক্লজ না থাকায় আমেরিকায় তার প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত।
দ্বিতীয়জন রালফ অরকুইন, যিনি বর্তমানে জুয়ারেজ ব্রাভোসের হয়ে খেলছেন। তার চুক্তিতে বাই-আউট ক্লজ থাকলেও, আমেরিকার ম্যানেজমেন্ট ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে। এই দুই খেলোয়াড় ক্লাবের রক্ষণভাগ আরও শক্তিশালী করতে পারেন।
কোচ আন্দ্রে জার্ডিনের নেতৃত্বে আমেরিকা এখন ফিফা উইন্ডোর বিরতিকে কাজে লাগিয়ে ট্যাকটিক্যাল দিকগুলোতে কাজ করছে। এই সময়ে তারা কোনো প্রীতি ম্যাচ খেলবে না, বরং জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেবে।
আশা করা হচ্ছে, বিরতির পর জোনাথান দোস সান্তোস ও দাগোবার্তো এসপিনোজা পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরবেন। ক্লাউসুরার শেষ ধাপে আমেরিকা চায় টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে।
ডি মারিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে মেক্সিকোর গুঞ্জন থাকলেও, তিনি এখনো ইউরোপে খেলার দিকেই বেশি আগ্রহী। হেরালদো দেপোর্তেস জানিয়েছে, তিনি আরও অন্তত এক মৌসুম ইউরোপে থাকতে চান।
এছাড়া, ডি মারিয়া তার শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে ফের খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে পরিবারের নিরাপত্তাজনিত কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে, ইউরোপে থেকেই ক্যারিয়ার শেষ করার সম্ভাবনাই বেশি দেখছেন ফুটবলবিশেষজ্ঞরা। তার মতো অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের জন্য ইউরোপের দরজা এখনো খোলা, যা আমেরিকার পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, ডি মারিয়া কি মেক্সিকোর পথে হাঁটবেন, নাকি ইউরোপেই থেকে যাবেন!