বিশ্ব ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনায় এসেছিল সৌদি আরবের ৬ হাজার কোটি টাকার নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। ধারণা করা হচ্ছিল, এটি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। তবে সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
গত ১৭ মার্চ, অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড স্পষ্টভাবে জানান, ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি এবং খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোডের কথা মাথায় রেখে সৌদি আরবের এই লিগকে সমর্থন করবে না ইসিবি।
তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের আধিক্য এবং খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন লিগের পরিকল্পনার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এমন কোনো পরিকল্পনাকে সমর্থন করব না।’
গত ১৫ মার্চ, অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এইজ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ নিল ম্যাক্সওয়েল গোপনে এক বছর ধরে সৌদি আরবের এই গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮ দলের এই লিগটি টেনিসের গ্র্যান্ড স্লামের মতো সারা বছর ধরে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ম্যাচ হবে সৌদি আরবে। আইপিএল বা অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না করে সূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বসেরা ক্রিকেটারদের বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সৌদি সরকার।
এমনকি, অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও এই লিগের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির বর্তমান সভাপতি জয় শাহ—যিনি ভারতীয় বোর্ডের (বিসিসিআই) গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—তিনি যে আইপিএলের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো টুর্নামেন্টের অনুমোদন দেবেন না, তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। তবে ভারতের চেয়েও আগে ইংল্যান্ড সরাসরি এই লিগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল।
সৌদি আরব ইতিমধ্যে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে লিভ গলফ, ফর্মুলা ওয়ান রেসিং এবং ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এবার ক্রিকেটেও নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাচ্ছে তারা।
তবে, ইসিবির স্পষ্ট বিরোধিতার পর এই লিগ আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।