রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রাইমারি সার্কিট ব্যবস্থা এবং যন্ত্রপাতির দৃঢ়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ২৪.৫এমপিএ চাপে হাইড্রোলিক টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে ইউনিটের রিয়্যাক্টরে ‘হট রান’ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পরমানু সংস্থা রসাটম।
আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, হাইড্রোলিক প্রেসার টেস্ট কয়েক ধাপে সম্পন্ন হয়েছে যেমন প্রাথমিক প্রস্তুতি, প্রাইমারি সার্কিটে পানি ভর্তি করা, প্রয়োজনীয় চাপ ও তাপমাত্রা অর্জন ইত্যাদি। হাইড্রোলিক টেস্ট চলাকালে বিভিন্ন প্যারামিটারের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অটোমেটেড প্রসেস কনট্রোল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা ইকুইপমেন্টগুলোর অবস্থা পরিপূর্ণভাবে মনিটর করেন এবং নকশা অনুযায়ী ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ইন্ডিকেটর পর্যালোচনা করেন।
এতমস্ত্রয়এক্সপোর্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক আলেক্সি দেইরী এ প্রসঙ্গে বলেন, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে হাইড্রোলিক টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে আমাদের প্রকল্পের উচ্চ গুণগত মান এবং নিরাপত্তা মান নিশ্চিত হয়েছে। এই ধাপটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পরবর্তীতে রিয়্যাক্টরের হট রান করার সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ভবিষ্যৎ দশকগুলোতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে রূপপুর প্রকল্প একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়ার আর্ধিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম।
২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান তুলে দেয় রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৩৩তম সদস্য হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রতিটি ইউনিটে স্থাপিত হয়েছে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর রিয়্যাক্টর। যত দ্রুত সম্ভব জ্বালানি লোডিং এবং তৎপরবর্তী স্টার্টআপের জন্য প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। দুই দফা সময়সীমা পিছিয়ে চলতি বছর প্রথম ইউনিট এবং আগামী বছরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
রূপপুরে বর্তমান কেন্দ্রের পাশেই একই সক্ষমতার আরও দুই ইউনিটের পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে। এটি হলে ওই দুই ইউনিটের নির্মাণ ব্যয় আগের চেয়ে অনেক কমে যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।