গোলের পর গোল করেও যেন উপেক্ষিত হ্যারি কেন! ইংল্যান্ড অধিনায়ক মনে করেন, ফুটবলপ্রেমীরা তার গোলের রেকর্ডকে এতটাই স্বাভাবিক ধরে নিয়েছেন যে, সেটি নিয়ে আর আলোচনা হয় না। এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল বলে মনে করেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা স্ট্রাইকার।
৩১ বছর বয়সী কেনের জাতীয় দলের হয়ে ১০৩ ম্যাচে গোল সংখ্যা ৬৯টি। ক্লাব ফুটবলেও দারুণ ফর্মে আছেন তিনি—বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে ৮২ ম্যাচে ৭৬ গোল করেছেন। এত অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরও কেনের মনে হচ্ছে, তার কৃতিত্বকে মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, 'রোনালদো আর মেসিও তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। যখন তারা ৫০ গোল করত, সবাই অবাক হয়ে যেত। কিন্তু যখন ৪০ গোল করল, তখন লোকে ভাবল, ওদের পারফরম্যান্স কমে গেছে! আমার ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটাই হচ্ছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'যখন আপনি নিয়মিত গোল করেন, তখন মানুষ সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়। ইংল্যান্ডের হয়ে যখন আমি আলবেনিয়া বা লাটভিয়ার বিপক্ষে গোল করি, তখন কেউ তেমন গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু যদি আমি এখন ২৫ বছর বয়সী হতাম, তাহলে আমাকে নিয়ে অন্যরকম উত্তেজনা থাকত।'
টটেনহ্যাম ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কেন বড় শিরোপার আশায় ছিলেন। চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগা শীর্ষে রয়েছে বায়ার্ন, ফলে প্রথম বড় ক্লাব ট্রফির স্বাদ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি একশ ভাগ নিশ্চিত যে, আমি ব্যালন ডি’অর জিততে পারি।'
তার ভাষ্য, 'গত মৌসুমেও আমি ৪০টির বেশি গোল করেছিলাম, কিন্তু দলীয় শিরোপা জিততে পারিনি বলে ব্যালন ডি’অর পাওয়া সম্ভব ছিল না। তখন টটেনহ্যামে খেলতাম, আর সর্বোচ্চ দশম স্থান অর্জন করেছিলাম।'
গ্যারেথ সাউথগেট যুগ শেষ করে এখন ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব নিয়েছেন থমাস টুখেল। এই জার্মান কোচের হাত ধরেই কেন ২০২৩ সালে বায়ার্নে পাড়ি জমিয়েছিলেন। এবার ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছেন তিনি।
নতুন কোচ সম্পর্কে কেন বলেন, 'গ্যারেথ আর টুখেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের মানুষ। কোচিং স্টাইলের দিক থেকেও কিছু পার্থক্য আছে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, টুখেল আমাদের সঠিক পথেই এগিয়ে নিয়ে যাবেন।'
দীর্ঘ ১৬ মাস পর ইংল্যান্ড দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন। তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে দারুণ খুশি কেন, কারণ তিনি মনে করেন, বড় টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র দক্ষ খেলোয়াড় নয়, ভালো নেতৃত্বগুণসম্পন্ন খেলোয়াড়দেরও প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, 'গ্রীষ্মের ইউরোতে আমরা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বল ছিলাম। যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে, তখন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দরকার হয়। হেন্ডো সেই দায়িত্ব নিতে পারে। সে এমন একজন, যার অভিজ্ঞতা দলের জন্য অপরিসীম।'
টুখেলও দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন বলে জানান কেন, 'তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে প্রত্যেকে সেরাটা দিতে পারবে।'
আলবেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন যুগের যাত্রা শুরু করবে ইংল্যান্ড। আর কেনের লক্ষ্য থাকবে নিজের গোলের ঝুলি আরও সমৃদ্ধ করা—যদিও মানুষ তার গোল দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেলেও, তিনি নিজে কিন্তু এখনো গোলের ক্ষুধায় মত্ত!