ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে থাকা ১১৫টি অভিযোগের কোনো প্রভাব পড়েনি আর্লিং হালান্ডের সিদ্ধান্তে। ক্লাবের সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেই তা বুঝিয়ে দিয়েছেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা।
২০২২ সালে জার্মান ক্লাব ডর্টমুন্ড থেকে ম্যান সিটিতে যোগ দেন হালান্ড। তবে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো তখনও তাকে দলে টানার জন্য প্রস্তুত ছিল। হালান্ডের বাবা এর আগে বলেছিলেন, তার ছেলে হয়তো ইউরোপের প্রতিটি লিগে কিছু বছর করে খেলবেন। কিন্তু শেষমেশ তারা পেপ গার্দিওলার দলকে বেছে নেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে হালান্ড ম্যানচেস্টার সিটির সাথে ৯ বছর ৬ মাসের নতুন চুক্তি করেন, যা তাকে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বেঁধে রাখবে। পুরো চুক্তি শেষ হলে ম্যান সিটিতে তার ১২ বছরের ক্যারিয়ার হবে। এই চুক্তি আরও বিস্ময়কর মনে হয়, কারণ ২০২২ সালে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ সিটির বিরুদ্ধে ১০০টিরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যান সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন বা বহিষ্কারের মতো কঠিন শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
গত বছরের শেষ দিকে তিন সদস্যের একটি প্যানেল এই অভিযোগগুলোর শুনানি করেছে, এবং খুব শিগগিরই রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। যদিও ম্যানচেস্টার সিটি বরাবরই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। ক্লাবের এই আত্মবিশ্বাসই হালান্ডকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে স্বস্তি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হালান্ড বলেন, ‘আমি যখন ৯ বছর ৬ মাসের চুক্তি সাইন করি, তখন এসব ভাবিনি। আমি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছি, ভালো লেগেছে, তারপরই চুক্তি করেছি।’
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মৌসুমটা ব্যক্তিগতভাবে ভালোই কাটছে হালান্ডের। এবারও তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মোহাম্মদ সালাহকে টপকানোর স্বপ্ন দেখছেন। তবে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ইউরোপ থেকে ছিটকে যাওয়া এবং লিগে শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তাকে ভাবাচ্ছে।
হালান্ড বলেন, ‘প্রতি বছর তো জেতা যায় না। এবার আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জায়গা নিশ্চিত করা এবং এফএ কাপ জেতা।’
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাত্র দুই মৌসুম খেলেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন হালান্ড। তবে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তার এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ম্যান সিটির জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।