লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ, পাওলো দিবালা ছিটকে গেছেন আগেই। চোটের কারণে খেলতে পারলেন না রদ্রিগো দি পলও। কিন্তু তারপরও উরুগুয়ের বিপক্ষে স্বস্তির জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে এক পা দিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা। দলগত প্রচেষ্টায় দলের এমন জয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি।
মন্তেভিদিওর এস্তাদিও সেন্টেনারিওতে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র লড়াই দেখা যায়। স্বাগতিক সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার এবং আক্রমণাত্মক খেলায় প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা চাপে ছিল। উরুগুয়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দুর্দান্ত এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার হয়ে জুলিয়ানো সিমিওনে একটি দুর্দান্ত শট নেন, যা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক সার্জিও রোচেতের চমৎকার সেভে আটকে যায়।
প্রথমার্ধের শেষে এনজো ফার্নান্দেজের একটি কড়া ট্যাকলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেফারি সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলান এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ৬৫তম মিনিটে আলমাদা একটি দূরপাল্লার শট নেন, যা রোচেত দুর্দান্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন। কিন্তু ম্যাচের ৭০তম মিনিটে আলমাদা ফের সুযোগ পান এবং এবার গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিকোলাস গঞ্জালেজ একটি উঁচু বুটের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখেন, যা আর্জেন্টিনার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি দলীয় প্রচেষ্টায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু জয়ের জন্য নয়, বরং তারা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে তার জন্য। এই মাঠে প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে না পারলে জেতা কঠিন। যখন গোল করতে হয়, তখন করতে হয়, আর যখন খেলা ধরে রাখতে হয়, তখন সেটা করতে হয়। সম্পূর্ণ খেলা উপহার দেওয়াটা সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।’
‘জাতীয় দল মানে পুরো একটি দল, এখানে একজন অনুপস্থিত থাকলেও অন্য কেউ দায়িত্ব নেয়। আজ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলেও আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছি। পারফরম্যান্স ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দল আছে, নামের ওপরে গিয়েও’ যোগ করেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।
এই জয়ে আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তারা এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে এবং আগামী ম্যাচে ব্রাজিলকে হারালে প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করবে।
স্কালোনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলোয়াড়রা। তারা থাকলে আমরা আমাদের খেলার ধরন বজায় রাখতে পারব। শেষ মুহূর্তে রক্ষণাত্মক খেলতে হলেও খেলব। দেখা যাক সামনে কী হয়।’
অন্যদিকে, উরুগুয়ে এখনো চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং তাদের বিশ্বকাপের টিকিট কাটার সম্ভাবনা প্রবল। একই দিনে ইনর ভ্যালেন্সিয়ার জোড়ায় ভেনিজুয়েলাকে ২-১ গোলে বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রেখেছে ইকুয়েডর।’