পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট

ঈদযাত্রায় প্রস্তুত ২৩ ফেরি, ৩৩ লঞ্চ, ৬০০ পুলিশ 

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদার খ্যাত সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম পাটুরিয়া ও উত্তর বঙ্গে যাওয়ার অন্যতম নৌ-রুট আরিচা ঘাট। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ দুই ঘাটযোগে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য কর্তৃপক্ষ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফেরি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি এ দুই ঘাটে নির্বিঘ্নে যাত্রী-যানবাহন পারের জন্য ২৩টি ফেরি প্রস্তুত রেখেছে। উভয় রুটে ৩৩টি লঞ্চ সচল রয়েছে। ৬৯ স্পিডবোট চলাচল করছে।

এদিকে যাত্রী নিরাপত্তা ও যানবাহন সুশৃঙ্খল রাখতে এ দুটি ঘাটসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অনন্ত ৩৬ কিলোমিটার রাস্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৬০০ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

জানা গেছে, ঈদের ছুটির শুরুর আগেই এ দুই ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন চাপ বৃদ্ধি পায়। প্রত্যহ হাজারো যাত্রী ও অসখ্য যানবাহন চাপে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। যানবাহন পাড়ে সিলিয়াল পদ্ধতি ঠিক রাখতে ফেরি সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ঈদের ৩ দিন আগে থেকে মালবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ছোট যানবাহন পারের জন্য পাটুরিয়ায় একাধিক ঘাট ব্যবহার করা হয়। উভয় ঘাটে যানবাহন ওঠা-নামার জন্য বাড়তি সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। যাত্রী সুবিধার্থে ঘাটের অদুরে যানজট সৃষ্টি হয় এ জায়গায় অস্থায়ী শৌচাগার, নলকূপ স্থাপন ও বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, যাত্রী নিরাপত্তায় পোশাক ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েত থাকবে। পকেটমার, ছিনতাইকারী, মলমপার্টি-অজ্ঞানপার্টি প্রভৃতি ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষায় পুলিশ ও স্থানীয় সহযোগিতায় নানা কৌশল নেওয়া হবে। এ সম্পর্কে ১৬ মার্চ মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোছাম্মৎ ইয়াছমিন খাতুন পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন- বিআইডব্লিউটিসি এজিম আব্দুস ছালাম জানান, ঈদে যাত্রী-যানবাহন পারাপারের জন্য নদীপথ ও ফেরিঘাট এলাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলোদিয়া রুটে ১৭টি ফেরি এবং আরিচা-কাজীরহাট রুটে ৬টি ছোট-বড় ফেরি সচল রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ বন্দর ও পরিবহন বিভাগ আরিচা নদী বন্দর উপ-পরিচালক মো. সেলিম শেখ দেশ রূপান্তরকে জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২০টি ও আরিচা কাজিরহাট রুটে ১৩টি লঞ্চ চলাচল করছে। পূর্বের ভাড়াই রয়েছে। জেলা প্রশাসন মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ির নির্দেশনায় ঘাটের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রী সুবিধার্থে ঘাটে এলাকায় অস্থায়ী শৌচাগার, নলকূপ স্থাপন ও বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, নৌ-পুলিশ সকলের সাথে সমন্বয় করে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।