কুষ্টিয়া মিরপুর থানার একটি হত্যা মামলায় জাসদ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুর ২টায় কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ছুমিয়া খানম এর আদালত দন্ডপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে ৭জনের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মাহবুবুল হক ওরফে বুলু বিশ্বাসের ছেলে জাসদ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন(৫৫), মৃত জুলমত আলীর ছেলে (পলাতক) জসিম উদ্দিন ওরফে বুড়ো (৫০), মৃত গারেশ মন্ডলের ছেলে কশাই ফজলু (৫০), ডাক্তার ইলিয়াছ আলী ওরফে খেদ আলীর ছেলে একলাছ আলী (৪৫), বিল্লাল হোসেনের ছেলে মুরাদ আলী (৪১), আছান আলীর ছেলে মাহবুল হোসেন(৩৫), বাবর আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৩৭), রবিউল ইসলামের ছেলে ওয়াসিম হোসেন (৩২) এবং মৃত মসলেম মন্ডলের ছেলে (পলাতক) রফিকুল ইসলাম (৫২)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টায় মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের বড় ছেলে পল্লী চিকিৎসক মো. লুৎফর রহমান ওরফে সাবু তার নিজ বাড়ি হতে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা আলামডাঙ্গায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে আমবাড়িয়া ইউনিয়ন কবরস্থানের প্রধানে ফটকের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা রাস্তার এপাশ ওপাশ দিয়ে রশিবেধে পথরোধ করে মোটরবাইক ঠেকিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উপর্যুপরি কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই লুৎফর রহমান সাবুর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব বাদি হয়ে জাসদ নেতা তৎকালিন আমবাাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলনসহ ১২ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় এজাহারকারী দাবি করেন স্থানীয় রাস্তা ও খালপাড়ের সরকারি গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় এবং গাছ কাটার অভিযোগে মামলা হওয়ায় আসামিরা নিহত লুৎফর রহমানের উপর ক্ষুব্ধ হন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল আলীম ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন আদালতে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাড. খন্দকার সিরাজুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার আমবাড়িয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক হত্যা মামলায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিদের প্রত্যেকের পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশও দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশীট ভুক্ত পরশ আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।