বিষ ঝাড়ার ওঝাকে সাপের ছোবল

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি বসতবাড়িতে গোখরা সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে অন্যের বিষ ঝাড়া ওঝা এখন নিজের বিষ ঝাড়তে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আহত ইমরান হোসেন (৩৮) উপজেলার হিড়িমদিয়া গোরস্তানপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাগগাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের বাড়ির উঠানে মাটি খুড়ে একটি গর্ত থেকে গোখরা সাপ ধরার সময় সাপুড়ে ইমরান সাপের কামড়ে আহত হন। ঘটনার পর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন বলেন, ১৬ জুলাই গৃহকর্তা আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে ২২ বছরের সম্রাট নিজ বাড়িতেই সাপের কামড়ে মারা যান। পরদিন শুক্রবার ওই বাড়িতে সাপ দেখতে পায় বাড়ির লোকজন। সেকারণে ভীতসন্ত্রস্ত পরিবারের লোকজন আমাকে খবর দেয়। বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করি। সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমাকে হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।

এদিকে ঘটনার পর ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডে তিনি নিজেকে সাপুড়িয়া হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও সাপের বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করার দাবিও করেছেন।

এবিষয়টি উল্লেখ করে চিকিৎসাধীন ইমরানের কাছে বিষ ঝাড়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘শুনেন ভাই আসল মালে যদি ছোবল দেয় তাইলে মায়েরো না বাপেরো না’ কোন শালার ওঝার বাপ দাদা চৌদ্দগুষ্টির কেরামতি নেই যে গুক্কু সাপের বিষ নামায়’।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, ইমরানকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত