নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাছে “আওয়ামী লিগ” নামে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করা দলের প্রধান উজ্জল রায়ের সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দল গঠন নিয়েও এলাকায় চলছে নানা গুনজন। তাকে এলাকার মানুষ উজ্জল রায় নয় চেনে ‘ভিভিড সাহা’নামে।
তার বাবা মা দাবী করেছেন, ছেলে উজ্জল রায় একজন মানসিক রোগী। গত ৪/৫দিন ধরে তিনি বাড়িতে নেই। তারা জানেন না ছেলে কোথায় আছে। গত সোমবার (২৪ মার্চ) উজ্জল রায় (২৬) নামে একজন “আওয়ামী লিগ” নামে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চেয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাছে আবেদন করেন।
উজ্জল রায় ওরফে ভিভিড সাহার বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নরেশ চন্দ্র রায়, মা পারুল রানী। তাদের বাড়ি গেটে লেখা রয়েছে 'সাহা পরিবার'।
বুধবার দুপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় উজ্জল রায়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে। ভিভিড সাহার বাবা নরেশ চন্দ্র বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে কনক চন্দ্র ইউএডিপিতে চাকরি করেন। মেয়ে প্রতীমা রানীকে বিয়ে দিয়েছেন দিনাজপুরে। ছোট ছেলে ভিভিড সাহা ৪ বার ফেল করে এসএসসি পাস করেছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেন। আমার ছেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারী) এমএস (নিউরো-সার্জারী) নিউরোসার্জন (ব্রেইন এন্ড স্পাইন সার্জন) নিউরো সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজ কুমার রায়ের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছে।
উজ্জল রায় উপজেলার ফুলবাড়ী টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্র। তার নথিপত্র রয়েছে এ প্রতিবেদকের কাছে। পার্বতীপুর হাবড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়া জন্ম সনদ অনুয়ায়ী তার জন্ম তারিখ ২৮.০৯.১৯৯৮ সাল। এ সময় তার কোনো ছবি আছে কিনা জানতে চাইলে, প্রথমে তার বাবা ও মা ছবি দিতে পারেননি। পরে তার বাবা একটি ব্যানার বের করে নিয়ে আসেন। যেটি বাংলা ১৪৩০ সনের দুর্গোৎসবের জানিয়ে তৈরি করা ব্যানার। যাতে লেখা রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি/চেয়ারম্যান আর্ন্তজাতিক সাম্প্রদায়িক সম্মেলন। এই ব্যানারে তার ছবিও পাওয়া যায়। কথা বলতে বলতেই তার বাবা নরেশ চন্দ্ররায় ব্যানারটি ছিড়ে ফেলেন।
ভাই কনক চন্দ্রের পাঠানো আরও একটি ছবি পাওয়া যায়। সেখানে উজ্জলকে অসুস্থ্য হিসেবে দেখা যায়। বাবা নরেশ চন্দ্র রায় (৬৫) বলেন, জানি না উজ্জল কীভাবে, কেন বা কার পাল্লায় পড়ে এই কাজ করেছেন। কিন্তু এলাকার মানুষ তাকে হাজার হাজারো প্রশ্ন করছেন।
তিনি বলেন, আমার ছেলে উজ্জলের নাম ব্যবহার করে কেউ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। উজ্জল একজন মানসিক রোগী। সেজন্য ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র আছে। আমি ছেলের হয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ও মানুসিক রোগী। ভালো মন্দ বুঝে না। ঠিকমত খেতেও পারে না। ৪/৫ দিনে আগে থেকে তাকে খুজে পাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে জানতে একাধিক প্রতিবেশীর কাছে গেলেও, কেউ কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, উজ্জল রায় নয় আমরা তাকে ভিভিড সাহা নামে চিনি।
মা পারুর রানী বলেন, বছর খানেক আগে নিরামিষ খাওয়া শুরু করে। ভিভিড সাহা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম সংগঠন ইস্কনে এক সময় যাতায়াত ছিল। এখন সে যায় না। কিন্তু সে মাছ-মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিবন্ধনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ভিভিড সাহা গা ঢাকা দিয়েছে। বিষয়টি জানতে উজ্জল রায় ওরফে ভিভিড সাহার সঙ্গে তার মোবাইল নম্বর ০১৭৭৩৪৫০৩৮২ তে কল করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপরে জানতে চাইলে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস ছালাম বলেন, আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের কাছে এধরনের কোন তথ্য নেই।