নাড়ির টানে বাড়ি ফেরায় তীব্র চাপ পড়েছে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে। এতে ঈদুল ফিতরের ছুটির প্রথম দিনেই পদ্মা সেতুতে টানা ১২ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার টোল আদায় হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ছোটবড় যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ।
তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, মাওয়া প্রান্তে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা টোল আদায় করা হয় ৪ হাজার ৬৩১টি যানবাহন থেকে। অপর দিকে, জাজিরা প্রান্তে ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫০ টাকায় টোল আদায় করা হয় ৩ হাজার ৭৬টি যানবাহন থেকে। দুইপ্রান্তে মোট ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে ৭ হাজার ৭০৭টি যানবাহন থেকে।
প্রকৌশলী আরও জানান, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে মাওয়া প্রান্তে যানবাহনের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। এতে দুইপ্রান্তে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে ১৯ হাজার ২৯৩টি যানবাহন থেকে।
আবু সাঈদ জানান, আজ সকালে টোল প্লাজায় গাড়ির চাপ বাড়ায় মোটরসাইকেলের জন্য অস্থায়ীভাবে ৩টি আলাদা বুথ চালু করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে পদ্মা সেতুতে যানবাহনের তেমন চাপ না থাকলেও সকাল থেকে পরিবহন, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলের চাপ বাড়তে থাকে। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্রীনগরের সমাষপুর এলাকার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
এদিকে কঠোর নিরাপত্তার চাঁদরে মোড়ানো রয়েছে পদ্মা সেতু এলাকা। সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি টহল, চেকপোস্টসহ তদারকি করা হচ্ছে। এতে পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ রয়েছে তৎপর।
পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, সকাল ৭টা থেকে প্রচুর যানবাহনের চাপ বাড়ে। তবে অপ্রীতিকর কিছু এখনও হয়নি। ঠিকঠাক ভাবে টোল আদায় হচ্ছে আশা করছি দ্রুত চাপ কমে যাবে।