গজারিয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে পড়ে ছিল গৃহবধূর নিথর দেহ। এই দিকে এই মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের তেতৈতলাস্থ হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের সামনে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। সেখানে ছিল না নিহতের স্বামী কিংবা শ্বশুর বাড়ির কোন লোকজন।

জানা যায়, নিহত ওই নারীর নাম ঝর্না আক্তার (২২), সে তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার চান্দেরকৃত্তি গ্রামের মৃত আ. সাত্তারের মেয়ে। বাবা-মা দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে ঝর্ণাকে বিয়ে দেন সুজনের সঙ্গে। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল। 

উকিল বাবা রিপন ভূঁইয়া বলেন, বিকাল ৫টা থেকে রুমের দরজা বন্ধ করে আছে এই খবর পেয়ে সুজনদের বাড়িতে যাই, অনেক ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে গ্রান্ডিং মেশিন লোহার পাতের দরজা কেটে তাকে বাহির করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।

একমাত্র বোন তাসলিমা আক্তার বলেন, আমার বোনের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য সুজন একাধিকবার সামাজিক ভাবে সালিশে বসেছিল কিন্তু ঝর্ণা ওর সঙ্গে সংসার করতে চেয়েছিল। মঙ্গলবার বিকালে এই বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বসার কথা ছিল আমরা এক আত্নীয়ের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলাম কিন্তু সুজন আসছিল না এই সময় খবর পাই বোন আত্মহত্যা করেছে। এটা ওদের পরিকল্পিত, আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার বোন হত্যার বিচার চাই।

এ বিষয়ে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আফরাহাম হোসেন (ফাহিম) বলেন, আমাদের হাসপাতালে রাত ১০টার দিকে নিয়ে আসার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টা নিয়ে স্বামী সুজন দেওয়ানের মতামত জানতে তাদের বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ দেখা যায় ও ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

বিষয়টা নিয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইন ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত