গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া দগ্ধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার পালপাড়া এলাকার ভানু কর্মকারের ছেলে কেশব কর্মকার (৪৬)। তিনি স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।
এলাকাবাসী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেশব কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কালিয়াকৈর বাজারে স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে তাদের সংসার। এর মধ্যে বড় মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু স্বর্ণ ব্যবসাসহ নানা কারণে কয়েক লাখ টাকা ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন কেশব কর্মকার। ওই ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে তিনি কিছুদিন ধরে দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছিলেন। গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে পানি ঢেলে তার শরীরের জ্বলন্ত আগুন নেভান। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন কেশব। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। সেখানে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। এছাড়াও তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানুষের পাওনা টাকা দিতে না পেরে নিজের গায়ে নিজেই কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কেশব। পরে তিনি দগ্ধ হয়ে মারা যান।
নিহতের বড় ভাই গোপাল কর্মকার জানান, ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেশব ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে পানি ঢেলে আগুন নেভায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ৯ দিন চিকিৎসার পর অবশেষে তিনি মারা যান। তবে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়াও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।