ঈশ্বরগঞ্জ

শেষ মুহূর্তে অর্ডার বন্ধ ট্রেইলার্সে, রেডিমেডেই ঝোঁক 

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে কেনাকাটায়ও চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি শপিং হাউস এখন ক্রেতা-বিক্রেতার বিকিকিনিতে মুখরিত। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দম ফেলার ফুরসৎ নেই বিক্রেতাদের। এবার  ভিড় এড়াতে ক্রেতারা আগেভাগেই নিজেদের পছন্দের জামা কাপড় বানাতে অর্ডার দিয়েছেন দর্রজিপাড়ায়। এখন বিরামহীনভাবে চলছে সেলাই যন্ত্রের খটখট শব্দ। দম ফেলার ফুরসত নেই দর্জিপাড়ার কারিগরদের। নিখুঁত মাপের আরামদায়ক পোশাক তৈরিতে কাটছে তাদের নির্ঘুম রাত।

ক্রেতারা বলছেন, রাস্তার যানজট, মার্কেটের ঠাসাঠাসি ভিড় এবং দরজির দোকানের বাড়তি মজুরি এড়াতে অনেকে কার্যত রমজান শুরুর আগেই শেষ করছেন ঈদের কেনাকাটার মূল পর্ব। তবে ক্রেতাদের একাংশ অসন্তোষ টেইলার্সে অর্ডার বন্ধ থাকা নিয়ে।

ঈদে ছোট ছেলে রাহাত ও নিজের জন্য পাঞ্জাবি বানাতে চান আমিনুল হক। পছন্দ করে দোকান থেকে কাপড়ও কিনেছিলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে টেইলার্সে যেতেই। ১০টি টেইলার্স ঘুরেও পাঞ্জাবি বানানোর অর্ডার দিতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে ছেলের জন্য একটি রেডিমেড পাঞ্জাবি কিনেছেন। নিজে ও ছেলের জন্য কেনা থান কাপড় হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় কথা হয় তার সঙ্গে।

আলাপকালে আমিনুল বলেন, ঈদে পরার জন্য শখ করে ছেলে ও আমার লাগি পাঞ্জাবির কাপড় কিনেছিলাম। কিন্তু যে টেইলার্সেই যাই, তারাই বলে- অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ১০টা টেইলার্স ঘুরছি। এখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছি। তাই ছেলের জন্য একটি রেডিমেড পাঞ্জাবি কিনে নিয়ে যাচ্ছি,আমারটা ঈদের পর বানাবো।

এদিকে, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের টেইলার্স ঘুরে এই তথ্যের সত্যতাও মিলেছে। এর মধ্যে বিসমিল্লাহ ট্রেইলার্সের সত্ত্বাধিকারী ও কাটিং মাস্টার হামিদুল হক বাচ্চু বলেন, পহেলা রমজান থেকেই তারা অর্ডার নেওয়া বন্ধ করেছেন। শবে বরাতের আগে থেকেই তাদের কাছে অর্ডার জমা হতে শুরু করেছিল। এখন প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আসেন অর্ডার দিতে। সবাইকে না করে দিচ্ছি, এতে আমাদের কিছু করার নেই।

উজ্জ্বল টেইলার্স অ্যান্ড ইমাম উদ্দীন বস্ত্রালয়ের মালিক কাটিং মাস্টার উজ্জ্বল বলেন, অর্ডার বন্ধ ১৫ রোজার পর থেকেই। এখন আর অর্ডার নিচ্ছি না। অনেক অর্ডার জমা আছে। সেগুলো ডেলিভারি দিতে পারব কি না শঙ্কায় আছি।

অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-বোনাস পাওয়ার পর ও ঈদ ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। আবার অনেকের মূল পোশাক কেনা শেষ। এখন চলছে অলংকার আর আনুষঙ্গিক কেনাকাটা। এবার শপিং কমপ্লেক্সে ইন্ডিয়ান পোশাকের সমারোহ কম দেখা গেলেও বেশি দেখা গেছে পাকিস্তানি পোশাক।

জানা গেছে, শার্ট-প্যান্টের পাশাপাশি ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবিতে। মেয়েদের পছন্দ সালোয়ার-কামিজ আর কারুকাজে সজ্জিত থ্রি-পিস ও ফোর পিসে। সঙ্গে রয়েছে নানা রঙের বোরকা। এটিও এখন অনেক তরুণীর ফ্যাশনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাজহারুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে একটি রেডিমেড প্যান্ট ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা হলেই পাওয়া যায়। সেখানে টেইলার্সে প্যান্ট সেলাইয়ের মজুরিই ৫০০ টাকা। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে দুইদিন আগে বেতন-বোনাস পেয়েছি। এমন সময়ে কোনো টেইলার্সেই অর্ডার নেয়নি। তাই রেডিমেড পোশাক কিনেছি। এতে আশ্রয়ও হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের বিনিময় আতর হাউজ অ্যান্ড বস্ত্রালয়ের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন ক্রেতাদের প্রচুর চাপ। দম ফেলার সময় নেই ভাই। সব ধরনের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। চাঁদরাত পর্যন্ত এই চাপ থাকবে।