বরিশাল নগরীর ঘেঁষা কীর্তনখোলা নদীর তীরে ফেলে যাওয়া নবজাতকটির পরিচয় পাওয়া গেছে। শিশুটি বাগেরহাট সদরের ঘনশ্যাম হালদারের সন্তান। প্রতিবন্ধী হবে বলে আশঙ্কা করায় মাত্র দুদিন বয়সী নবজাতকটিকে নদীতীরে ফেলে যাওয়া হয়। পরে পিঁপড়া ও পোকার আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা ওই শিশুকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের ত্রিশ গোডাউনের সিঙ্গারা পয়েন্টে কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় রুহুল আমিন ও অন্য বাসিন্দারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, একটি প্লাস্টিক ঝুড়ির মধ্যে তোয়ালে পেঁচানো নবজাতকটি পড়ে আছে। নবজাতকটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত শুক্রবার বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে শিশুটির বাবা ঘনশ্যাম হালদারের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি বাগেরহাট সদরের এক চায়ের দোকানদার।
নবজাতকের মা অন্তরা বরিশালের সদর রোডের ডা. মোখলেচুর রহমান হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছিলেন। শিশুটির জন্মগতভাবে মেনিনগোসিল রোগ থাকায় চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন ঘনশ্যাম।
ঘনশ্যাম হালদার জানান, তিনি অর্থাভাবে শিশুটির চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি এক পরিবারকে দত্তক দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই পরিবারই নবজাতককে রাতে ফেলে যায়। এখন তিনি সন্তানের সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন। বর্তমানে নবজাতকটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।