‘সবার ঈদ আছে, আমাদের নাই’ 

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশজুড়ে আনন্দ, উচ্ছ্বাস। টানা কয়েকদিনের ছুটিতে নানা বয়সী নারী-পুরুষ উদযাপন করছেন ঈদ। কিন্তু অনেকের সে সুযোগ নেই। কর্তব্যের বাধ্যবাধকতা আর অর্থাভাবে ঈদের আনন্দ তাদের কাছে দুঃখ আর হতাশার এক নাম। ঈদ উদযাপনের দিনেও তারা ব্যস্ত অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায়। তাদেরই একজন মো. আলাল (৫২)‌। 

যাত্রাবাড়ি-ডেমরা সড়ক পার হয়ে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় সড়কের বাম পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী (সিকিউরিটি গার্ড) হিসেবে চাকরি করেন আলাল। সকাল আটটায় ডিউটি শুরু করেছেন। টানা চলবে রাত আটটা পর্যন্ত। ১২ ঘণ্টার ডিউটি শেষে ফিরবেন ঘরে। আলাপকালে আলাল এই প্রতিবেদককে বলেন, মাস ছয়েক আগে বেসরকারি এই ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন। চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। তাই বোনাস নেই। কোনো ছুটি নেই। গত ছয়মাস টানা দায়িত্ব পালন করছেন।

আলাল থাকেন রুপগঞ্জের চরতনপাড়ায়। স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে আনিকাকে নিয়ে তার সংসার। মাসে বেতন পান ১১ হাজার তিনশ টাকা। দুর্মূল্যের এই বাজারে এই টাকায় কিভাবে কী হয়, তা সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন। আলালও এই বাস্তবতার মুখোমুখি।  ঘরভাড়া, মেয়ের পড়াশুনা, সংসার খরচ, চিকিৎসা ও ওষুধ কিনতে গিয়ে গলদঘর্ম অবস্থা তার‌। মাস শেষের আগেই ধারকর্জ করতে হয় তাকে। এই পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ নেই তার।  

জানতে চাইলে আলাল বলেন, ঈদের কেনাকাটা বলতে গেলে তেমন কিছুই করতে পারেননি। মেয়ের জন্য একটি জামা কিনেছেন। অনেক সাধাসাধির পরেও স্ত্রী ঝর্ণা কিছুই নিতে চাননি। খুব প্রয়োজন তাই নিজের জন্য কেবল একটি লুঙ্গি কিনেছেন আলাল। আলালদের ঈদের কেনাকাটা বলতে এই। 

আজ কিভাবে দিনটি পার করছেন- এমন প্রশ্নে আলাল বলেন, সকালে স্ত্রী একটু সেমাই রান্না করেছেন। একটু গোস্ত কেনার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু হিসেবের টাকা খরচ করতে মন সায় দেয়নি। 

তিনি বলেন, রাতে বাসায় ফিরতে ৯টা-১০টা বেজে যাবে। তখন তো ঈদের দিন প্রায় শেষ। এরপর আবার পরদিন সকালে কাজে ফেরার তাড়া। এভাবেই চলে যাবে ঈদের ছুটির কয়েকটা দিন। 

হতাশা আর দুঃখমাখা কণ্ঠে আলাল বলেন, 'অন্যের আমানত রক্ষার দায়িত্ব নিছি। কষ্ট হইলেও এর বরখেলাপ করতে চাই না।' 

তিনি আরো বলেন, 'আমরা খাইট্যা খাওয়া লোক। সবার ঈদ আছে।  আমাগোর ঈদ নাই। মাস শেষে যা পাই খাইয়া পইড়া চলতেই পারি না।'