ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যাটিং অর্ডার সাধারণত ১১ নম্বরেই শেষ হয়। তবে কনকাশন বদলির নিয়ম চালুর পর ১২ নম্বরে ব্যাটিং করা আর অবাস্তব কিছু নয়। সেই বিরল তালিকায় এবার নতুন উচ্চতায় নাম লেখালেন পাকিস্তানের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ে নামার কথা ছিল ১১ নম্বরে। তবে কনকাশন বদলির কারণে এক ধাপ পিছিয়ে ১২ নম্বরে নামেন তিনি। ব্যাট হাতে অপরাজিত ১৩ রান করেই গড়লেন রেকর্ড—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ নম্বরে নেমে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তানের ইনিংসের ২৫তম ওভারে কিউই পেসার উইল ও’রোকের বাউন্সারে আঘাত পান হারিস রউফ। মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে তার বদলি হিসেবে নামানো হয় নাসিম শাহকে। ১১ নম্বরে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন নাসিম, ৪৪ বলে ৫১ রান করেন তিনি, যা ওয়ানডে ইতিহাসে ১১ নম্বরে নেমে দ্বিতীয় ফিফটি।
নাসিমের ব্যাটিংয়ের কারণে মুকিমকে ব্যাট করতে হয় ১২ নম্বরে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনি। পরে ব্যাট হাতেও দেখান ঝলক, একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ নম্বরে ব্যাট করা ক্রিকেটারের সংখ্যা ১৪। তবে তাদের মধ্যে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন মাত্র ১০ জন। এর আগে ১২ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল মাত্র ৪ রান! ২০২৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে আফগানিস্তানের জাহির খান করেন এই রান।
একই বছরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ১২ নম্বরে নেমে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন আফগান পেসার ফজলহক ফারুকি। বাকি সাতজন বা তো শূন্য রানে আউট হয়েছেন, নয়তো অপরাজিত ছিলেন।
ওয়ানডেতে মুকিমের আগে ১২ নম্বরে ব্যাটিংয়ের একমাত্র নজির ছিল আয়ারল্যান্ডের জশ লিটলের। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি নামলেও কোনো রান করতে পারেননি।
২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও জশ হেইজেলউডের ১২ নম্বরে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তবে দল আগেই জিতে যাওয়ায় তাদের ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন হয়নি।
মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অভিষেক রেকর্ড গড়লেন ২৫ বছর বয়সী এই স্পিনার। এর আগে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই চার উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এবার ব্যাট হাতেও নতুন এক অধ্যায় রচনা করলেন সুফিয়ান মুকিম।