এই সত্যে
করলা ক্ষেতের এই চরাচরে
মরতে চেয়েছি শান্ত এক ভোরে।
খুনের শহরে ঘৃণার শহরে
গান লিখি গাই আমার অক্ষরে।
গুমে, খুনে, মানে নীতির আক্রোশে
ভিজে আছে মাটি রক্তে আফসোসে।
ঈদ পার্বণের ছোট এক চাঁদ
সাদা ফুল হয়ে নামায় প্রবাদ।
রোজকার সূর্য নামিয়েছি বাঁশি
ঘাটের মেয়েরা জল নিতে আসি।
বাউলের মন একরোখা তার
একটা জীবনে মরে বারবার।।
বলুন তো কবি কবিতায় কিছু কখনো কি হবে
জেব্রা ক্রসিং কিংবা রাষ্ট্রের কবরে
দেহখানা ঠিক রেখে দিতে হবে!
রফিক আজাদ
কবি মরে গেলে
সলতে পাকানো আত্মা
সন্ধ্যার কিনারে জ¦লে।
বহু প্রজন্ম পরের
কামিনি গাছেরা এই দৃশ্য আবিষ্কার করে।
মাটিতে তখনো বইছে
মঙ্গোলীয় রক্ত।
চওড়া কাঁধের কোন রফিক মারাক
অনেক উঁচুতে কিংবা ক্ষেত সমতলে
আনারস ফুলে উজ্জ্বল মুকুটে প্রাণ ঝলমলে
কিংবা পানশালা সাকুরায়
একটা চেয়ারে পান করছেন সাদা গ্লাসের আনন্দ।
বন্ধু
একটি পাতার ঝরে পড়া কালে
অন্যান্য পাতারা কখনো কি বলে
দাঁড়াও না ভাই কিছুক্ষণ থাক অপেক্ষাই কর
ভূমির গন্তব্যে মোনাজাত ধর।
ভূমিতে ফড়িং গোত্র পাখিদের জলসিগনেচার
ভূমিতে মানব, প্রিয় বন্ধুদের সুর ও বিহার।
যতবার ডুবে এই ভাঙা তরী
বন্ধু তুলেছেন এই হাত ধরি।
বৃষ্টিপুরাণের দেশে
এই জীবসত্যে
পূর্ণতা কি আছে!
এই বৃষ্টিপুরাণের দেশে
চোখের পাতাও নদী!
পুঁথি পাঠের আবেগে নিজেকে ঢেলে দেওয়ার
নিবেদনগুলো পত্রঝরা, নিবন্ধন করে মাটি।
ঈর্ষা-পুরাতন জগৎ একটা কাঁঠাল পাতার থেকে ছোট
পানের বরজে চলাচলরত বাতাসের মতো ক্ষণস্থায়ী।
বাগানগন্ধের বৃষ্টির ছাঁটও
কিছুক্ষণ পাশে থাকে।
চেনা জমিনের পাশে পাখিপল্লবিত
ভাঁটফুলগুলো হাসিকান্নাতেও নয় পূর্ণ ও অনন্ত।
সাথে নিয়ে প্রান্তিক বিকাল বাঁশ ঝোপের নীরবে
নিলুফা বেগম শেষে কথা রেখেছেন।