বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান যাত্রা

লম্বা ছুটিতে দেশের বেশিরভাগ মানুষ যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগে ব্যস্ত, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা তখন ক্যাম্পে। ঈদুল ফিতরের দিন দুয়েক পরেই নিগার সুলতানা জ্যোতি ও তার দলকে উড়াল দিতে হচ্ছে পাকিস্তানে, নারীদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের বাছাইপর্ব খেলতে। তারই প্রস্তুতি নিতেই দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের ছুটিতে পাঠায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিজস্ব পরিবারের বাইরে, খেলতে খেলতেই পরিবার হয়ে ওঠা নারী ক্রিকেটাররা ঈদের আনন্দ উদযাপন করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। দেশ ছাড়ার আগে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্যোতি জানালেন, বাছাইপর্ব থেকে উতরে মূল আয়োজনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।

৯ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানে শুরু হতে যাচ্ছে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। অংশ নেওয়া ৬টি দল হচ্ছে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশ। আসরের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলই একবার করে খেলবে প্রতিটি দলের বিপক্ষে। প্রতিটি জয়ের জন্য ২ পয়েন্ট। ১৫ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ২ দল অর্জন করবে সেপ্টেম্বরে ভারতের মাটিতে হতে যাওয়া নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা। বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম ও লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্যোতি জানালেন, বাছাইপর্ব থেকে চূড়ান্ত পর্বে উত্তরণই মূল লক্ষ্য, ‘দেখেন কোয়ালিফায়ার মানে হচ্ছে কোয়ালিফাই করতে যাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আর গতবারও আমাদের কোয়ালিফাই করে ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে হয়েছে। সো এবারও আমাদের সেম জিনিস, হয়তো-বা সুযোগ ছিল যেটা আমরা পূরণ করতে পারিনি। বাট স্টিল বলব যে, যদি কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে বেটার খেলতে পারি টিমের জন্য ভালো এবং সবার প্রত্যাশা তো থাকবে ওইটা যে যেন ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে পারি।’

এই লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তুতিতে বিসর্জন দিতে হয়েছে পরিবারের সান্নিধ্যে ঈদ উপভোগের আনন্দও। জ্যোতির বিশ্বাস, বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতেই হয়, ‘প্রস্তুতির জন্য দেখেন আমরা ঈদের ছুটিতে বাসায় যেতে পারিনি। ঈদের আগের দিনই প্র্যাকটিস করতে হয়েছে। আমরা সবাই জানি যে, দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টটা। কারণ একটা টিম যখন বড় একটা ইভেন্ট খেলে আইসিসির, তখন একটা ডিফারেন্ট ওয়েতে মানুষ সেটা দেখে। প্লাস হচ্ছে বলব যে, আইসিসির কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরচুনিটিজ আসে যখন একটা টিম ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলে। আমরা জানি যে বিশ্বকাপ খেলা আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য বড় একটা জিনিস। কারণ লাস্ট টাইম যখন খেলছি, এফটিপিতে এন্টার করছি। তখন  আমাদের ক্রিকেটের পরিমাণটা অনেক বেশি বেড়ে গেছে।’

হাসান তিলকরত্নের বিদায়ের পর বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ হয়েছেন দেশের অভিজ্ঞ কোচ সারোয়ার ইমরান। তার সঙ্গে জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প আছেন ব্যাটিং কোচ হিসেবে, যার অভিজ্ঞতা আছে পাকিস্তানের নারী দলের সঙ্গে কাজ করার। জ্যোতি আশা করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা দলকে ভালো করতে সাহায্য করবে, ‘উনি ইনক্লুড হওয়াতে আমার মনে হয় টিমের জন্য অনেক ভালো হয়েছে বিকজ মেয়েদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সেকেন্ড হচ্ছে- পাকিস্তানের মেয়েদের হেড কোচ হিসেবে লং টাইম ছিলেন। ওদের কন্ডিশনটা অনেক ভালো জানেন, সেখানে কীভাবে রান করতে হয় সেটা ভালো করে জানেন। উনি ওনার এই এক্সপেরিয়েন্সগুলো শেয়ার করছিলেন, প্রত্যেকটা সেশনের পর উনি ইন্ডিভিজুয়ালি বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটের সঙ্গে কথা বলেছেন, কোন ওয়েতে গেলে আমাদের জন্য বেটার হবে। কাজটা সহজ হবে। যেহেতু আমাদের অ্যাগেইনস্টে উনি অনেক বেশি প্ল্যান করেছেন এর আগেও, হয়তো অপনেন্ট টিমের কোচ ছিলেন। এখন আমাদের বলছেন যে উনার জন্য আমাদের রিড করা অনেক সহজ, সেই হিসেবে কাজের পরিধি এবং টাইমগুলো কম ছিল। অল্প সেশন পেয়েছি, বাট পাকিস্তানে গিয়ে মনে হয় তার এক্সপেরিয়েন্স কাজে লাগবে।’

থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড কিংবা আয়ারল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে নিয়মিতই জিততে পারে বাংলাদেশ। সমস্যাটা হয় নিজেদের কাছাকাছি সামর্থ্যরে বা ওপরের পর্যায়ের দলের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে, যখন ব্যাটিংটা ঠিকঠাক হয় না। শীর্ষ দুইয়ে জায়গা পেতে বড় বাধা এই দুই প্রতিপক্ষই। তবে জ্যোতি মনে করেন, এই দুই দলকেও হারানো সম্ভব, ‘প্রথমত আমার মনে হয় দুটো দলই (পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বিটেবল। কারণ আমরা দুটো দলকেই হারিয়েছি। পাকিস্তানের সঙ্গে রেগুলার বেসিসে খেলা হয়। হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে না। রিসেন্টলি আমরা খেলে আসছি তাদের অ্যাগেইনস্টে, একটা ম্যাচ উইনও করেছি। সো এইদিক থেকে একটু হলেও কনফিডেন্স আছে। এর আগে কিন্তু থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলব, দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দেন পাকিস্তানকে পাব। প্রথম থেকে যদি একটা মোমেন্টাম ক্রিয়েট করতে পারি তাহলে আমার কাছে মনে হয় যে টিম ওয়াইজ খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বলব যে নতুন একটা সারফেস থাকবে। আমাদের জন্যও সেম। পাকিস্তান ওইদিক থেকে এগিয়ে থাকবে, তাদের জন্য হোম কন্ডিশন। বাট স্টিল আমার মনে হয় যদি টিম ওয়াইজ ভালো খেলতে পারি এবং স্পেশালি যদি ব্যাটিং ইউনিট রান করতে পারে কারণ আমরা সবাই জানি পাকিস্তানের উইকেট কেমন হবে। বেশি ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। সেখান থেকে ব্যাটিংয়ে যদি ভালো স্টার্ট এনে দিতে পারি এবং বোলাররা কিন্তু দুর্দান্ত, সব সময় ভালো ব্যাকআপ দেয়। সো লক্ষ্য তো থাকবে যেন আমরা ব্যাটিং ইউনিট ভালো পারফরম্যান্স করি।’

যে কোনো বড় আসরেই বাংলাদেশকে ভোগায় ব্যাটিং। এবারে সেই দুশ্চিন্তা দূর করার নতুন ‘ডাক্তার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলবে এমনটা আশা করাই যায়, তবে তার আগে যদি পচা শামুকে পা কাটে তাহলে হয়তো বিশ্বকাপের আগে বাছাইপর্বের মাঝপথেই দর্শক হয়ে যেতে পারেন জ্যোতিরা।